ব্রেকিং:
আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি গার্ডেন থিয়েটার কুমিল্লার একক নাট্য প্রদর্শনী ১০ রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ ইঞ্জিন বিকল, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রোজায় কমলো অফিসের সময়সূচি গাড়ি তৈরি করবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ: শিল্পমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব রোজায় বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর রমজানে লোডশেডিং নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শিল্প-পণ্য মেলা বন্ধ চেয়ে ডিসিকে ব্যবসায়ীদের চিঠি ‘বউ-শাশুড়ি বইঘর’ গড়তে ২০০ বই নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নববধূ পুলিশের দুই মামলায় জামিন পেলেন লক্ষ্মীপুর বিএনপির সদস্য সচিব শখের মোটরসাইকেলেই প্রাণ গেল কলেজছাত্র মাহিনের সেনবাগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ বুধবার এসএসসি পরীক্ষায় নকল দিতে গিয়ে ৩ যুবকের ২ বছর করে কারাদণ্ড ‘হামলা’ ও হেনস্থার বিচার দাবি কুবি শিক্ষক সমিতির প্রচারণায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিনা টিকিটে ভ্রমণ, ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করলেন প্রবাসী
  • মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

  • || ২২ শা'বান ১৪৪৫

এলজিইডির পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে চাঁদপুরের ব্যাপক পরিবর্তন

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩  

 প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলেও পরবর্তীতে এর কাজের পরিধি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।

এলজিইডি স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিনটি সেক্টরে কাজ করে থাকে; এগুলো হচ্ছে-পল্লি উন্নয়ন, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন ও নগর উন্নয়ন।

একইসঙ্গে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। এলজিইডির সার্বিক কর্মকাণ্ড দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখছে। পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডি আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বমানের প্রকৌশল সংস্থা।

গ্রামীণ অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্যকে গতিশীল করতে উন্নয়ন করা হচ্ছে গ্রোথ সেন্টার ও গ্রামীণ হাট-বাজার। কৃষক সহজেই উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছে এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এতে করে জনগণের আয় বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এলজিইডি দেশব্যাপী উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের কাজও বাস্তবায়ন করছে। এতে করে স্থানীয় জনগণ একই ছাদের নিচে সহজেই সকল সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এলজিইডি নির্মিত পল্লি অবকাঠামো বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নে বদলে গেছে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের চিত্র। বিগত ১৫ বছরে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে চাঁদপুর জেলায় এলজিইডি’র অর্জন কয়েক দশকের কাছাকাছি। বিগত ১৫ বছরে সড়ক যোগাযোগ, ব্রিজ, কালভার্ট, অবকাঠামোসহ জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। চাঁদপুর জেলায় বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

জেলার সঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়নের সড়ক সংযোগ স্থাপতি হয়েছে। সহজেই জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সবপ্রান্তে যাতায়াত ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। মানুষের আর্থ সমাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্র মতে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে ৮৮৮.১৫ কিলোমিটার পল্লী সড়কের উন্নয়ন হয়েছে। সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ১৩৮৬৪.১০ মিটার, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সম্প্রসারণ ২টি, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ২৮টি, গ্রোথ সেন্টার হাট-বাজার নির্মিত হয়েছে ৩৫টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ৬২০টি, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (হেক্টর) হয়েছে ২০৮৩ টি, খাল খনন ১৪ (কিলোমিটার), বাঁধ নির্মাণ ৫ ( কিলোমিটার)’ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা এবং একই অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৩১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।

এদিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে পল্লী সড়কের উন্নয়ন হয়েছে ১৮১০. ১৫ কিলোমিটার। ১’শ মিটারের উপরে বৃহৎ সেতু নির্মিত হয়েছে ৩টি, সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ৩৬২৩.১৩ মিটার, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সম্প্রসারণ ৩টি, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ২০টি, গ্রোথ সেন্টার হাট-বাজার নির্মিত হয়েছে ১৯টি।

সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ৬টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ৭৩৬টি, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ৫৩৩২ হেক্টর, সুইচ রেগুলেটর-রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে ১০টি। খাল খনন ৫৭.৪০ কিলোমিটার, বাঁধ নির্মান ১৩. ৯ কিলোমিটার, এবং ৭টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ৬১টি অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা নিবাস, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ৫৪ কোটি টাকা এবং একই অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২১০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে।

এলজিইডি চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। দেশের উন্নয়ন সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ সাফল্য অর্জন আজ বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। তারপরও ১৫ বছরে চাঁদপুর যে পরিমান কাজ হয়েছে তা গ্রামীন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এলজিইডি) দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। পল্লি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এবং হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এলজিইডি যে অবদান রেখেছে তা আজ দৃশ্যমান।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। এ উন্নয়ন সাফল্য অর্জনে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়কপথ নির্মাণকাজে এলজিইডি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৫ বছরে চাঁদপুরের বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অসংখ্য রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ- কালভার্ট, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, সম্প্রসারণ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সাফল্য অর্জনে এলজিইডি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য, মোঃ আহসান কবির চলতি বছরের ৭ মাৰ্চ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চাঁদপুর যোগদানের পর থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে এলজিইডির কাজের গুণগত মান সঠিক রাখার স্বার্থে কাজ করছেন।