ব্রেকিং:
আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি গার্ডেন থিয়েটার কুমিল্লার একক নাট্য প্রদর্শনী ১০ রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ ইঞ্জিন বিকল, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রোজায় কমলো অফিসের সময়সূচি গাড়ি তৈরি করবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ: শিল্পমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব রোজায় বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর রমজানে লোডশেডিং নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শিল্প-পণ্য মেলা বন্ধ চেয়ে ডিসিকে ব্যবসায়ীদের চিঠি ‘বউ-শাশুড়ি বইঘর’ গড়তে ২০০ বই নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নববধূ পুলিশের দুই মামলায় জামিন পেলেন লক্ষ্মীপুর বিএনপির সদস্য সচিব শখের মোটরসাইকেলেই প্রাণ গেল কলেজছাত্র মাহিনের সেনবাগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ বুধবার এসএসসি পরীক্ষায় নকল দিতে গিয়ে ৩ যুবকের ২ বছর করে কারাদণ্ড ‘হামলা’ ও হেনস্থার বিচার দাবি কুবি শিক্ষক সমিতির প্রচারণায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিনা টিকিটে ভ্রমণ, ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করলেন প্রবাসী
  • মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

  • || ২২ শা'বান ১৪৪৫

হাজীগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ে ৪০ হেক্টর জমির রবি ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২৩  

ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র পরে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ৪০ হেক্টর জমির রবি মৌসুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যার ফলে ঋণ করে ফসল আবাদ করে দিশে হারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো আগামী বোরো মৌসুমের আগ পর্যন্ত পতিত পড়ে থাকবে। কৃষি বিভাগ বলছে-জলাবদ্ধতার কারণ নির্ধাণ করে ওইসব এলাকায় গণসচেতনতা তৈরী করা হবে।

গত কয়েকদিন উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের মাড়কি উত্তর পাড়া, পশ্চিম পাড়া, পৌর এলাকার বলাখাল গ্রাম ও সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে গিয়ে দেখাগেছে শীতকালীন আগাম সব্জি, আলু ও অন্যান্য ফসলগুলো জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। অনেক কৃষক তাদের জমির সর্বশেষ ফসল রক্ষায় জমি থেকে সেচের মাধ্যমে পানি অপসারণ করছেন। বাকী আবাদি জমিগুলোর ফলগাছ ধীরে ধীরে মরে নুয়ে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যে জানাগেছে, ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার আগাম শীতকালীন সব্জির মধ্যে মিষ্টি কুমড়া ও লাউ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হেক্টর জমি। এছাড়াও ১৫ হেক্টর জমির ষরিষা, আলু, মরচি, খিরা, শসা, টমেটু, ফুল কপি, রসুন ও পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার আওতায় আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপজেলা থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।

মাড়কী উত্তর পাড়ার কৃষক আবুল বাশার জানান, তিনি এ বছর তিন একর জমিতে আগাম শীতকালীন শাক সব্জির আবাদ করেছেন। জলাবদ্ধতায় তার পুরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে তিনি এখন পথে বসার অবস্থা। এই কৃষক বিভিন্ন সমিতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করেছেন। ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে তার পিতা আব্দুল হালিম মারাগেছেন।

ওই এলাকার কৃষক মোস্তফার সরিষা, কবির মিয়াজী, মো. জসিম গাজী ও রফিক দত্ত জানান, তাদের নিজেদের জমির ফসল যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তেমনি মাড়কী উত্তর ও পশ্চিম পাড়ার প্রায় দুই শতাধিক কৃষকের রবি মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত।

মাড়কী পশ্চিম পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শফিউল্লাহ মিয়াজী জানান, তাদের এলাকায় কৃষক খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। যারা পানি নিস্কাশনের খাল বন্ধ করে রেখেছে তাদের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সরেজমিন এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকার তিন ফসলি জমিগুলো আর আবাদ হবে না। পতিত পড়ে থাকবে বছরের অধিকাংশ সময়।

বলাখলাল গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান, ৫ একর জমিতে লাউ, চালকুমড়া, মিস্টি কুমড়া, খিরা ও শসা চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির পানিতে সবগুলো ফসলে পচন ধরেছে। এখন কীভাবে চলবে সংসার আর কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম জানান, সরকারি খাল ভরাট বা মাছ চাষ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করে বাড়ী ঘর নির্মাণ করার কোন বিধান নাই। ইতোমধ্যে কিছু বাঁধ ভেঙে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ আসলে কৃষি বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ব্যবস্থা নিব। তবে এক্ষেত্রে জন সচেতনতা তৈরি করা সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি। আর বাধঁ দেয়া বা বাড়ি তৈরি করার আগে অভিযোগ দিতে হবে। বাড়ি তৈরি হয়ে গেলে অভিযোগ দেয়াটা কতটা যৌক্তিক। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে আমরা প্রনোদনার আওতায় আনব।