ব্রেকিং:
নোয়াখালীর কবিরহাটে ৩৬ দিন পর লাশ উত্তোলন বসুরহাটের বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র কাদের মির্জা প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে বাবা-মা রাজি না হওয়ায় আত্মহত্যা নানা সংকটে হুমকিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে পাচার হয়েছে ৩৫শ’ কোটি টাকা নেত্রকোণায় কাঁচা ঘাস খেয়ে ২৬ গরুর মৃত্যু প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নাগরিক সুবিধায় নিয়ে আসব ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা আদায়কালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৮ ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণ গেলো ১২ গবাদিপশুর ফেনীর সোনাগাজীতে আযান দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ফেনীর ফুলগাজীতে ফুটপাত মুক্ত করতে নির্দেশনা নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন নোয়াখালীর চাটখিলে চেম্বারে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ কাদের মির্জার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হয়ে পদ হারাল ছাত্রদল নেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে হেলথ প্রোভাইডার মসজিদ থেকে জুতা চুরি করায় প্রবাসীকে ফেরত পাঠাচ্ছে কুয়েত! ভদ্র স্বভাবের বিগ বসের অপর নাম ‘শিক্ষিত গরু’, দাম ৫ লাখ রাজার পছন্দের খাবার আপেল-মাল্টা-পেয়ারা, ওজন ১১ মণ
  • শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

লক্ষ্মীপুর টেকসই বেড়ী বাঁধের কাজ শেষ করার দাবি

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৪  

ঘূর্ণিঝড় রিমাল চলে গেলেও উপকূল জুড়ে রেখে গেছে ক্ষত-বিক্ষতের হাজারো চিহ্ন। এর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিস্তীর্ন জনপদ। অস্বাভাবিক জোয়ারে পানিবন্ধী হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। কাঁচাঘরের ভিটির মাটি সরে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসংখ্য পরিবার। ঘরের ছাল উড়িয়ে নিয়ে বহু পরিবারকে রেখেছে খোলা আকাশের নিচে। বাতাসের তোড়ে ভেংগে যাওয়া ঘরকে সামনে রেখে অনেক পরিবার কাঁদছেন বেঁচে থাকার চিন্তায়।
২০১৫ সালে দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেঘনার তীর সংরক্ষণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশ ধসে পড়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন আলেকজান্ডার সাড়ে চার কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের তিনটি পয়েন্টে, রামগতিবাজার সংলগ্ন এক কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের তিনটি পয়েন্টে ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাৎক্ষনিক বাঁধের সংষ্কার করা হলেও এর ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা এলাকাবাসীর। ঝড়ের তাণ্ডবলীলা যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ।
গতকাল শুক্রবার সকালে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা উপকূলীয় এ অঞ্চলটি ক্ষতবিক্ষত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনের হাহুতাশ লক্ষ্য করা গেছে। মেঘনার তীরবর্তী লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, চরআবদুল্লাহ, বয়ারচর, তেলিরচর, চরগজারিয়া, বড়খেরী, চরগাজী ও কমলনগর উপজেলার লুধুয়া, মাতাব্বরহাট, নাছিরগঞ্জ, নবীগঞ্জ,মতিরহাট, পাটারীরহাট, চরফলকন, চরকালকিনি, সাহেবেরহাট ও চরমার্টিন ইউনিয়নের প্রায় ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত জোয়ারের আঘাতে দুইশো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রায়হান। ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছেন একটি মুরগীর খামার। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট বাতাসে সেটি একমাস বয়সী ২ হাজার মুরগী নিয়ে ধসে পড়েছে পুকুরের পানিতে। পুঁজিসহ সব হারিয়ে এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন।
আলেকজান্ডার ইউনিয়নের মুন্সিরহাট থেকে জনতা বাজার সড়কে দুটি কালভার্ট ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলার চরগোসাই গ্রামে একাধিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তীব্র জোয়ারে রামদয়াল বাজার থেকে বিবিরহাট ও রামগতি বাজার পর্যন্ত একাধিক স্থানে ধসে গেছে রাস্তা। খসে গেছে সড়কের পিচ ও ইটের সুরকি। বিবিরহাট-রামগতি সড়কের কোরের বাড়ি মোড় সংলগ্ন বেড়ীবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বেইলি সেতুর দুপাশের মাটি সরে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এ দুটি এলাকার।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে চরআলেকজান্ডার ইউনিয়নে দুই শতাধিক, চররমিজ ইউনিয়নে শতাধিক, বড়খেরীতে প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ।
রামগতি পৌরসভার ৬ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড সবুজগ্রাম ও আলেকজান্ডার এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতঘরের ভিটির মাটি সরে গেছে জোয়ারের পানিতে। ভিটির মাটি চলে যাওয়ায় অন্যত্র থাকতে হচ্ছে তাদের।
পৌরসভার মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক কিছু সহায়তা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অত্যাধিক ক্ষতিগ্রস্ত চরআবদুল্যাহ, আলেকজান্ডার, চররমিজ ও বড়খেরীর বিভিন্ন এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে উপজেলায় অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ৩১ টি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আশ্রিত লোকজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। রামগতি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের শাহাব উদ্দিন জানান, জোয়ার ও বাতাসের তীব্রতা দেখে এখানে আসছি। খাবার-দাবারে কোন সমস্যা হয়নি। বাড়ি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এখান বাড়ি ফিরেছি।
ঘূর্ণিঝড় রিমালে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে বেশ কয়েকটি স্থানে ধসে গেছে ৩ হাজার একশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩১কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। বন্ধ রয়েছে ব্লক তৈরি ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ। তীব্র জোয়ারে বড়খেরী, চরগোসাই, চররমিজ, চরআলেকজান্ডারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসী চলমান বেড়ীবাঁধের কাজ যথাসময়ে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগেই শেষ করার জোর দাবি জানান। না হয় জোয়ার জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার এ দুর্ভোগ কখনোই পিছু ছাড়বে না। পূর্বে নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের যথাযথ সংষ্কার এবং দেখভাল জোরদার করার দাবিও জানান তারা।
কমলনগরের চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার সাইফুল্লাহ বলেন, তার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।
রামগতির চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন ও বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাকছুদ মিজান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে তাদের ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নষ্ট হয়েছে। পরিষদের পক্ষ থেকে তারা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহ ইতিমধ্যে পরিবদর্শন করা হয়েছে। বেড়ীবাঁধের ধসে পড়া অংশ সমূহতে জরুরী ভিত্তিতে সংষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে।
কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, তিনি উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। অবশ্যই তাদের সহায়তা করা হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের রাতে তিনি নিজেই সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।