ব্রেকিং:
রাইসির মৃত্যুতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন ফেনীর একরাম হত্যাকাণ্ড ১ দশক পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামী পলাতক মেয়রের সামনেই কাউন্সিলরকে জুতাপেটা করলেন আলোচিত সেই চামেলী আজ ঢাকায় আসছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাইসির মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক নোয়াখালীতে মাথাসহ হরিণের ৩০ কেজি মাংস উদ্ধার হাসপাতাল নয় যেন গারদখানা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে রাইসির হেলিকপ্টার, কোনো আরোহী বেঁচে নেই রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের ছবি-ভিডিও প্রকাশ্যে আজ থেকে ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ নোয়াখালীতে শতকোটি টাকার জমি উদ্ধারের পর প্রকৌশলী বদলি লক্ষ্মীপুরে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ কাঁচা মরিচের কেজি ছাড়াল ২০০ টাকা এক জালে মিলল ৫৫০০ পিস ইলিশ, ১৭ লাখে বিক্রি ছোট ভাইকে ‘কুলাঙ্গার’ বললেন মির্জা কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পুনর্জন্ম ফেনীতে কিশোর গ্যাং পিএনএফের প্রধানসহ গ্রেফতার ৫ সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান
  • বুধবার ২২ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ইঁদুরের শত্রু, কৃষকের বন্ধু জাকির হোসেন

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৩  

সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বেশিরভাগ উৎপাদিত জমির ফসল এবং খাদ্যশস্য ধ্বংস করছে ইঁদুর। ক্ষতিকারক সেই ইঁদুর নিধন করে কৃষকদের পরম বন্ধু হয়ে উঠেছেন জাকির হোসেন নামে এক কৃষক। তিনি উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি ও কৌশলের মাধ্যমে ইঁদুর নিধন করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। 

১৬ বছরে তিনি ৮০ হাজার ইঁদুর নিধন করেছেন। ইঁদুর নিধনের জন্য তিনি জেলা পর্যায়ে বহু পুরস্কার পান। তিনি এখন সার্বিকভাবে স্থানীয় কৃষকদেরকে ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষক জাকির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের আখরন্দ গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। তার পরিবারে ৩ ছেলে ৪ মেয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদে কৃষি বিভাগের আয়োজনে ইঁদুর নিধন অভিযানের এক আলোচনা সভায় তিনি যোগ দেন। এর আগে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি নিধন করা বেশ কয়েকটি ইঁদুর নিয়ে আসেন।

তিনি জানান, যখনই কৃষকরা তাকে ইঁদুর নিধনের জন্য খবর দিচ্ছেন সেখানেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন। ইঁদুরের কবল থেকে সোনালী ফসল রক্ষার জন্য তিনি সব সময় কৃষকের পাশে থেকে কাজ করছেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালে শুরু হয় তার ইঁদুর নিধন কার্যক্রম। স্থানীয়ভাবে প্রথম বছরে ইঁদুর নিধন করে তিনি সবার নজরে আসেন। তার এই ধারাবাহিক কার্যক্রমে গত ১৬ বছরে অন্তত ৮০ হাজার ইঁদুর নিধন করেছেন।
  
জাকির হোসেন মাঠ পর্যায়ের একজন আদর্শ কৃষক। তিনি মৌসুম অনুযায়ী সব সময় জমিতে নানা জাতের ধান আবাদ করছেন। কিন্তু তিনি দেখতে পান প্রতি বছর তারসহ অন্যান্য কৃষকের ফসল ইঁদুর কেটে নষ্ট করছে। এতে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন কি মানুষ হলাম মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কিছুই করতে পারছি না। চোখের সামনে ফসল কেটে ইঁদুর নষ্ট করে ক্ষতি করছে কিন্তু  কিছুই করতে পারছি না। এরপর তিনি জিং দিয়ে ইঁদুর মারার ওষুধ তৈরি করেন। প্রথম প্রথম স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে বেশ উপহাসও করে। যখন ওই ওষুধের কার্যকর তারা দেখতে পান তখন সবাই ওই ওষুধ জমিতে দেওয়া শুরু করেন। তখন ইঁদুর নিধনে তার কাছ থেকে পরামর্শ ও ওষুধ নিতে শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, ইঁদুর যা খায় তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করে। এর পর থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে ইঁদুর নিধনে কৌশল উদ্ভাবন করে ইঁদুর মারতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন  জেলা উপজেলায় ইঁদুর নিধনে এ কার্যক্রম হাতে নেন। কৃষি বিভাগরে পরামর্শে তিনি এরপর থেকে ইঁদুর নিধন কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি বলেন, আমি ছোট কাল থেকেই কৃষকের কাজ করি। কৃষকের ফসল যাতে ইঁদুর নষ্ট করতে না পারে এ জন্য তিনি ইঁদুর নিধন করে কৃষকদেরকে উৎসাহিত করছি। এতে করে ফলন বাড়ছে। 

তিনি বলেন, আমি ইঁদুরের ডাক ও ভাষা বুঝি। ডাক ও ভাষার মাধ্যমে তাদেরকে ধরা হয়।

ইঁদুর নিধন করে এ পর্যন্ত তিনি ৭ বার পুরস্কার পেয়েছেন। সর্বশেষ গত দুই দিন আগে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ২০২২ অঞ্চল পর্যায়ে সর্বোচ্চ ইঁদুর নিধন স্বীকৃতি স্বরুপ আঞ্চলিক পর্যায়ে কুমিল্লায় পুরস্কার পান।

পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো. তাহার মিয়া বলেন, প্রতি বছর জমির ফসল ইঁদুর কেটে ক্ষতি করছে। অনেক কিছু করেও ইঁদুরের কবল থেকে ফসল রক্ষা করতে পারছি না। শুনেছি এখানে ইঁদুর নিধনের একজন অভিজ্ঞ লোক আসবেন। তিনি কীভাবে ইঁদুর নিধন করে এবং ইঁদুরের ভাষা বুঝে ইঁদুর ধরে তাই দেখতে মূলত আসা। 

কৃষক মো. ফজলু মিয়া বলেন, ইঁদুরের আক্রমণে ফসল নষ্ট হচ্ছে। ইঁদুর নিধনের বিষয়ে জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

আখাউড়া উপজলো কৃষি কর্মকর্তা  মোছাম্মদ তানিয়া তাবাসসুম বলনে, ফসলের প্রধান শত্রু হলো ইঁদুর। ফসল রক্ষায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এদিকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জাকির হোসেন ইঁদুর নিধনের ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। জমির ফসল রক্ষা করতে কীভাবে ইঁদুর নিধন করা হয় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এই কাজের জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাছাড়া তিনি কৃষকের জন্য নিবেদিত।