ব্রেকিং:
মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ রাখাইনে বড় সংঘাতের আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ একদিনে পদ্মাসেতুর আয় পৌনে ৫ কোটি টাকা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিদর্শনে শেখ হাসিনা ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন ফর সোশ্যাল জাস্টিসে’ যোগ দিলো বাংলাদেশ রেলস্টশন-বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ঢল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী গ্রেফতার ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু চালু হচ্ছে সেপ্টেম্বরে নোয়াখালীর কবিরহাটে ৩৬ দিন পর লাশ উত্তোলন বসুরহাটের বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র কাদের মির্জা প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে বাবা-মা রাজি না হওয়ায় আত্মহত্যা নানা সংকটে হুমকিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে পাচার হয়েছে ৩৫শ’ কোটি টাকা নেত্রকোণায় কাঁচা ঘাস খেয়ে ২৬ গরুর মৃত্যু প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নাগরিক সুবিধায় নিয়ে আসব ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা আদায়কালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৮ ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণ গেলো ১২ গবাদিপশুর ফেনীর সোনাগাজীতে আযান দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ফেনীর ফুলগাজীতে ফুটপাত মুক্ত করতে নির্দেশনা
  • রোববার ১৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২ ১৪৩১

  • || ০৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সোনাগাজীতে ১১ দিনেও সহায়তা পাননি জেলেরা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৩  

প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিন নদী, সমুদ্র ও সাগরের মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১১ দিন পরও ফেনীর সোনাগাজীতে নিবন্ধিত প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পেরে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলেরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। পেটের দায়ে অনেকে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সোনাগাজী সদর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৯৭ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। মাছের প্রজনন মৌসুমে উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে মাত্র ৩৪৫ জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১১ দিনেও কোনো বরাদ্দ আসেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য মৎস্য বিভাগ মাছ ধরার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা করে। এসময়ে নদী ও সমুদ্রের মাছ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, মজুত ও বিনিময় করা যাবে না। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে কাজ করছেন। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ৬৫ দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Feni-3.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চর খোন্দকার, দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া ও পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার জেলেপাড়ায় সহায়তা না পেয়ে জেলারা অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। অনেকে আবার পেটের দায়ে রাতের আধারে নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করে সূর্য ওঠার আগেই তীরে ফিরে এসে মাছগুলো আড়তদার ও ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছেন।

নিবন্ধিত জেলেরা জানান, সোনাগাজীতে প্রায় তিন হাজার জেলে রয়েছে। সরকারিভাবে মাত্র দুই হাজার জেলেকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেরাও সরকারি সহায়তা না পেয়ে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

চর খোন্দকার জেলেপাড়ার প্রিয়লাল জলদাস বলেন, নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ। অনেক কষ্টে তাদের জীবিকা চলছে। কেউ কেউ বিভিন্ন সড়কের পাশে জলাশয় ও পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের খাবার জোগাড়ের ব্যবস্থা করছেন। অনেক জেলে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারায় ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না।

Feni-3.jpg

হরলাল জলদাস জানান, গত কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় হওয়ায় নদী ও সাগরের মাছ ধরতে যেতে পারেননি। এতে করে অনেক জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান না। সরকারি সহায়তাও পাননি। জীবিকার তাগিদে বড় ফেনী নদীর তীরে মশারির জাল দিয়ে চিংড়ির পোনা মাছ ধরে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন।

সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ চাল পাওয়া মাত্রই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, ৬৫ দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। তবে সরকারিভাবে মাত্র ৩৪৫ পরিবারের জন্য প্রথম দফায় ৫৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসবে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০ কেজি কেজি চাল বিতরণ করা হবে। সরকারিভাবে আর কোনো সাহায্য আসার সম্ভাবনা নেই। তবে অন্য জেলেদের জন্যও সাহায্য পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।