ব্রেকিং:
রাইসির মৃত্যুতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন ফেনীর একরাম হত্যাকাণ্ড ১ দশক পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামী পলাতক মেয়রের সামনেই কাউন্সিলরকে জুতাপেটা করলেন আলোচিত সেই চামেলী আজ ঢাকায় আসছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাইসির মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক নোয়াখালীতে মাথাসহ হরিণের ৩০ কেজি মাংস উদ্ধার হাসপাতাল নয় যেন গারদখানা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে রাইসির হেলিকপ্টার, কোনো আরোহী বেঁচে নেই রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের ছবি-ভিডিও প্রকাশ্যে আজ থেকে ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ নোয়াখালীতে শতকোটি টাকার জমি উদ্ধারের পর প্রকৌশলী বদলি লক্ষ্মীপুরে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ কাঁচা মরিচের কেজি ছাড়াল ২০০ টাকা এক জালে মিলল ৫৫০০ পিস ইলিশ, ১৭ লাখে বিক্রি ছোট ভাইকে ‘কুলাঙ্গার’ বললেন মির্জা কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পুনর্জন্ম ফেনীতে কিশোর গ্যাং পিএনএফের প্রধানসহ গ্রেফতার ৫ সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান
  • বুধবার ২২ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪৫

যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্বীকারোক্তি

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৩  

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেওয়ান ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি রামগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মঙ্গলবার (২ মে) রাত ৯টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে র‍্যাব-১১ সোমবার তাকে ঠাকুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করেন।a

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, পূর্ব শক্রতার জেরে ও এক ব্যক্তির ফোন কলে পাওয়া নির্দেশে নোমান ও রাকিবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মামলার ৩ নম্বর আসামি দেওয়ান ফয়সাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

ফয়সাল জবানবন্দিতে বলেন, ২৫ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ফয়সালের মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির কল আসে। তখন তাকে বলা হয়, নোমানকে মারতে হবে। এরপর তিনি মোটরসাইকেলে নাগেরহাটে যান। সংঘবদ্ধ হয়ে তারা হেঁটে ঘটনাস্থলে যান। তখন নোমান ও রাকিব মোটরসাইকেলে করে নাগেরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় প্রথমে শর্টগান দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। এতে মোটরসাইকেল নিয়ে রাকিব পড়ে যান। নোমান লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা তার মাথায় গুলি করে।

এসপি বলেন, জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম ও তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এদিকে দুই নেতা হত্যা মামলায় বিকেলে ৭ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে মশিউর রহমান নিশান ও রুবেল দেওয়ানের ৫ দিন এবং মো. সবুজ, আজিজুল ইসলাম বাবলু ও নাজমুল হোসেন নাজিমের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল (চন্দ্রগঞ্জ) আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবীর এ আদেশ দেন। এছাড়া এ মামলায় মনির হোসেন রুবেল ও ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নিশান সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, অন্য আসামিরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মী। মামলার প্রধান আসামি আবুল কাশেম জিহাদির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আসামিদের মধ্যে সবুজ ও বাবলুকে এর আগে ২৮ এপ্রিল ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছিলেন আদালত।  

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বলেন, ৫ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। আদালত ২ জনের ৫ দিন ও ৩ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এরমধ্যে ২ জনকে দ্বিতীয়বারের মতো রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি।

নোমান ও রাকিব হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান আবুল কাশেম জিহাদিকে দায়ী করছে ভুক্তভোগী পরিবার। কাশেম জিহাদী বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি নিজের নামে বাহিনী গঠন করে এলাকায় দুই যুগ ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বশিকপুর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, অপহরণ, দখলসহ অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

হত্যার ঘটনার পর থেকে আবুল কাশেম জিহাদি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থল গিয়ে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসক সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন রাতে নিহত নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম জিহাদিকে প্রধান করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।