ব্রেকিং:
৪ মে থেকে বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের উদ্বোধন ৪ নভেম্বর দুর্গাপূজা: দেশজুড়ে মণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লক্ষাধিক আনসার-ভিডিপি ১৫ বছরে ধানের ৮০ নতুন জাত ঢাকা-না’গঞ্জ লিঙ্ক রোড ছয় লেন হচ্ছে চাপে থাকা অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস ফিলিস্তিনের জন্য বাংলাদেশে আজ রাষ্ট্রীয় শোক আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে আজ বার কাউন্সিলের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হামানকর্দ্দির কামাল গাজীকে আসামী করে সদর মডেল থানায় মামলা টিকটকে প্রেমের পর বিয়ে, ৩ বছরের মাথায় তরুণীর আত্মহত্যা লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন : প্রতীক পেলেন প্রার্থীরা ২১ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ শিক্ষামন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা মোহনপুরে নৌ-পুলিশের অভিযানে ১৩ জেলে আটক ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ পূজা নিয়ে এমপি বাহারের বক্তব্য ব্যক্তিগত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপি বাহারের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী দেখছেন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে মেঘনায় মিলল নিখোঁজ জেলের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেডক্রিসেন্টের অ্যাডহক কমিটি গঠন
  • বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

সবার আগে ফাইনালে কুমিল্লা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

আন্দ্রে রাসেল, সুনিল নারাইনের মতো মহাতারকাদের নিয়ে এমনিতেই শক্তিশালী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের জন্য দলে যোগ করা হলো মইন আলিকেও। সেখানে সিলেট স্ট্রাইকার্স দল সাজাল জোড়াতালি দিয়ে শফিকউল্লাহ ঘাফারি, ইসুরু উদানাদের নিয়ে। দুই দলের ক্রিকেটীয় মানে তাই পার্থক্য বিশাল। ছোট পুঁজি নিয়ে তবু লড়াই চালিয়ে গেল সিলেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না কুমিল্লার শক্তির গভীরতার সঙ্গে।
টানা তিন ম্যাচ হেরে আসর শুরু করেছিল যে দল, সেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সবার আগে ফাইনালে উঠে গেল টানা ১০ জয়ে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৪ উইকেটে হারাল সিলেট স্ট্রাইকার্সকে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট গুটিয়ে যায় স্রেফ ১২৫ রানেই। কুমিল্লা ঝড়ো শুরুর পরও শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষ করে ২০ বল বাকি থাকতে।
সিলেট হয়তো ম্যাচটি জমাতে পারত আরেকটু। কিন্তু শুরুর দিকে মুশফিকুর রহিম ও রুবেল হোসেনের ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ পড়ে একটি। পরে মুশফিক হাতছাড়া করেন আরও একটি ক্যাচ ও স্টাম্পিংয়ের সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ হারলেও সিলেটের আরেকটি সুযোগ আছে ফাইনালে ওঠার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখোমুখি হবে এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ী রংপুর রাইডার্সের।
সিলেটের বিপর্যয়ের শুরু ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার থেকেই। শফিকউল্লাহ ঘাফারিকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে একটা ফাটকা খেলেছিল সিলেট। তা কাজে লাগেনি। লেগ স্টাম্পের বাইরের ফুল টস ডেলিভারিতে অদ্ভুতভাবে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন আফগান অলরাউন্ডার। আন্দ্রে রাসেল তার ক্যারিয়ারে এতটা বাজে বলে আর উইকেট পেয়েছেন বলে মনে হয় না।
এক বল পর আরও বড় ধাক্কা। অহেতুক ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান তৌহিদ হৃদয়। তখনও পর্যন্ত এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান স্কোরার এ দিন রানের মুখই দেখতে পারেননি। পরের ওভারে বাজে শটে মইন আলিকে উইকেট দিয়ে আসেন জাকির হাসানও (২)।
তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো দলের হয়ে পাল্টা আক্রমণ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। রাসেলের চার বলের মধ্যে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। ছক্কাটি অবশ্য পেয়ে যান ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে কিপারের পেছন দিয়ে।
চমক উপহার দিয়ে চারে উঠে আসা মাশরাফি বিন মুর্তজাও জ্বলে ওঠেন ব্যাট হাতে। নিজের সেরা সময়ের কিছু ঝলক দেখিয়ে কয়েকটি দুর্দান্ত শট খেলেন সিলেট অধিনায়ক। মুস্তাফিজকে চার মারেন তিনি টানা দুই বলে, বিশাল ছক্কায় উড়িয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে। মুকিদুল ইসলামের লেংথ বল আছড়ে ফেলেন ড্রেসিং রুমের ছাদে।
তাতে বিপর্যয় অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে সিলেট। কিন্তু মাশরাফির বিদায় দিয়ে আবার পথ হারানোর শুরু তাদের। রাসেলের বলে তানভিরের দারুণ ক্যাচে থামে মাশরাফির ক্যামিও। দুটি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে করেন তিনি ২৬। জুটিতে আসে ৩৭ বলে ৫৬ রান।
সিলেটের বড় সর্বনাশ হয়ে যায় পরের ওভারে। পরপর দুই বলে উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত ও রায়ার্ন বার্ল। দারুণ খেলতে থাকা শান্ত বোল্ড হয়ে যান জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে (২৯ বলে ৩৮)। বার্ল ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েন সীমানায়।
তারপরও সিলেটের লড়িয়ে রানের আসা জিইয়ে ছিল মুশফিকের ব্যাটে। শুরুটা দারুণ করেছিলেন তিনি। চার বাউন্ডারি আদায় করে নেন বেশ দ্রুতই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি তিনিও। মুকিদুলকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে উড়িয়ে মেরে তিনি ধরা পড়েন কাভারে (২২ বলে ২৯)।
এরপর তানজিম হোসেন সাকিব কিংবা প্রথমবার মাঠে নামা ইসুরু উদানা পারেননি ভালো কিছু করতে। প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আরেক ক্রিকেটার জর্জ লিন্ডা একটি ছক্কার পর আউট হয়ে যান ১৩ রানে।
৮ রানের মধ্যে সিলেট হারায় শেষ ৪ উইকেট। ১৭ বল বাকি রেখেই শেষ হয় তাদের ইনিংস।
রান তাড়ায় কুমিল্লাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন সুনিল নারাইন। লিটন দাস যদিও আউট হয়ে যান ১০ বলে ৭ করে, নারাইন আরেক প্রান্ত খেলেন আগ্রাসী সব শট। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারের ইনিংস যদিও পঞ্চম ওভারে থামিয়ে দেন তানজিম, তবে ততক্ষণে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ১৮ বলে ৩৯ রান করে ফেলেছেন তিনি।
শুরুর চাপ উধাও হওয়ায় বাকি পথটাও সহজ হয়ে যায় কুমিল্লার জন্য। জনসন চার্লস যদিও রান আউট হয়ে যান ৪ রানে, ফর্মে ফিরতে পারেননি অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও। তবে লক্ষ্য ছোট ছিল বলেই তাদের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ১৩ বলে ২১ রানের ক্যামিওতে সমীকরণ আরও সহজ করে যান মইন আলি।
সিলেট ম্যাচটি হয়তো আরেকটু জমাতে পারত। কিন্তু জর্জ লিন্ডার বলে ৬ রানে মোসাদ্দেককে স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেন মুশফিক। শেষ দিকে লিন্ডার বলেই আন্দ্রে রাসেলের ক্যাচ ছাড়েন সেই মুশফিকই।
সেই মোসাদ্দেক এক প্রান্ত আগলে ২৭ বলে ২৭ রান করে টিকে থাকেন শেষ পর্যন্ত। রুবেলের ওভারে বিশাল দুটি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন রাসেল।
তিন শিরোপা জিতে আগে থেকেই বিপিএলের সফলতম দল কুমিল্লা। তাদের সামনে হাতছানি এবার আরও একটি ট্রফি জয়ের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট স্ট্রাইকার্স: ১৭.১ ওভারে ১২৫ (শান্ত ৩৮, ঘাফারি ৫, হৃদয় ০, জাকির ২, মুশফিক ২৬, মুশফিক ২৯, বার্ল ০, লিন্ডা ১৩, তানজিম ৬, উদানা ০, রুবেল ০*; তানভির ৪-০-৩০-২, রাসেল ৩-০-২২-২, মইন ২-০-২০-১, নারাইন ৩.১-০-৮-১, মুস্তাফিজ ৩-০-২৫-২, মুকিদুল ২-০-১৮-১)
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৬.৪ ওভারে ১৩০/৬ (লিটন ৭, নারাইন ৩৯, চার্লস ৪, ইমরুল ১৩, মোসাদ্দেক ২৭*, মইন ২১, জাকের ০, রাসেল ১৫*; উদানা ২-০-১৫-০, রুবেল ৩.৪-০-৩৩-৩, তানজিম ২-০-২৮-১, লিন্ডা ৪-০-২১-০, ঘাফারি ৪-০-২১-১, মাশরাফি ১-০-১০-০)
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানভির ইসলাম