ব্রেকিং:
নোয়াখালীর কবিরহাটে ৩৬ দিন পর লাশ উত্তোলন বসুরহাটের বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র কাদের মির্জা প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে বাবা-মা রাজি না হওয়ায় আত্মহত্যা নানা সংকটে হুমকিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে পাচার হয়েছে ৩৫শ’ কোটি টাকা নেত্রকোণায় কাঁচা ঘাস খেয়ে ২৬ গরুর মৃত্যু প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নাগরিক সুবিধায় নিয়ে আসব ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা আদায়কালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৮ ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণ গেলো ১২ গবাদিপশুর ফেনীর সোনাগাজীতে আযান দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ফেনীর ফুলগাজীতে ফুটপাত মুক্ত করতে নির্দেশনা নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন নোয়াখালীর চাটখিলে চেম্বারে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ কাদের মির্জার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হয়ে পদ হারাল ছাত্রদল নেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে হেলথ প্রোভাইডার মসজিদ থেকে জুতা চুরি করায় প্রবাসীকে ফেরত পাঠাচ্ছে কুয়েত! ভদ্র স্বভাবের বিগ বসের অপর নাম ‘শিক্ষিত গরু’, দাম ৫ লাখ রাজার পছন্দের খাবার আপেল-মাল্টা-পেয়ারা, ওজন ১১ মণ
  • শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

৪০ হাজার কোটি ডলারের মালিক, প্রতি শুক্রবার করতেন মসজিদ নির্মাণ

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

থিবীর সর্বকালের সেরা ধনী মুসলিম শাসক মানসা মুসা। তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি ডলার।    আধুনিক ধনকুবেরদের ইতিহাসে তার মতো এতো বেশি সম্পদ অর্জন করতে পারেননি। ২০২২ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ধনী ব্যক্তির তালিকার প্রথম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। চলতি মাসে তার সম্পদের পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন ডলার।

তবে আজ মানসা মুসা বেঁচে থাকলে তিনি অর্জন করতেন বিশ্বের ধনী ব্যক্তি প্রথম স্থানে। বলা হয়ে থাকে কারো পক্ষে যতটা বর্ণনা করা সম্ভব তার চেয়েও ধনী ছিলেন মানসা মুসা। এই ধনকূপের কাছে এতো বেশি পরিমাণ সোনা ছিল যে তিনি তার রাজ্য থেকে ১০ কিলোমিটার লম্বা একটি পথ সোনা দিয়ে ঢেকে দিতে পারতেন। 

১৪ শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী তিনটি অঞ্চলের একটি ছিল পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্য। যা ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। মুসার শাসনামলে প্রাচীন বিশ্বের সোনা প্রায় অর্ধেক মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। শুধু সোনা উত্তোলনে নয়, পাশাপাশি পুরো দুনিয়ার অর্ধেক লবণ আহরণ হতো মুসার সাম্রাজ্যের অধীনে। এসবের মালিক ছিলেন রাজা নিজেই। 

বিশাল সোনা আর লবণের বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন মুসা। এই ধনকুবের জন্ম ১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে। বড় ভাই আবু-বকরের মৃত্যুর পর তিনি মালির রাজা হন ১৩১২ খ্রিষ্টাব্দে। তার শাসনামলে মালি সাম্রাজ্যের শান-শওকত ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন রাজধানী তিম্বুকতুসহ ২৪টি নগর যুক্ত করে মালি সাম্রাজ্য। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে বর্তমান নিজার, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং আইভোরি কোস্টের বড় অংশ ছিল তার রাজত্বে। 

নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রচারের কাজে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪ থেকে ১৩২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন এই ধনকুব। ঐ সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার  ছিল সেবক যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার দন্ড। এছাড়াও ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনার গুঁড়ো বহন করছিল। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। 

বলা হয়ে থাকে ঐ হজে মানসা মুসা আজকের দিনের প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ওজনের সোনা ব্যয়  করেছিলেন। যে কারণে এরপরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় সেখানে সোনার দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে শহরগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি। তিনি সোনা নিয়ে গিয়েছিলেন হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে আর ফেরত আসেন জ্ঞান নিয়ে। 

মক্কা থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদকে সঙ্গে নিয়ে আসেন মানসা মুসা।  তিনি প্রতি শুক্রবার একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন। ধনী সে রাজাকে পশ্চিম আফ্রিকায় শিক্ষার প্রসারের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও সাম্রাজ্যের বাইরে তার গল্প খুব কম মানুষেই জানতে পেরেছিলেন। 

১৩৩৭ সালে ৫৭ বছর বয়সের মানসা মুসার মৃত্যু হয়। তারপর ছেলেরা আর বাবার সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেননি। ছোট রাজ্যগুলো একে একে বিদ্রোহ করে এবং একসময় পুরো রাজ্যকে ধ্বংস করে দেয়। মানসা মুসার সমৃদ্ধ মালি সম্রাজ্য বর্তমানে আফ্রিকার দরিদ্রতম একটি দেশে পরিণত হয়েছে।  

সূত্র: হিস্ট্রি/ উইকিপিডিয়া/ বিবিসি