ব্রেকিং:
নোয়াখালীর কবিরহাটে ৩৬ দিন পর লাশ উত্তোলন বসুরহাটের বাজেট ঘোষণা করলেন মেয়র কাদের মির্জা প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে বাবা-মা রাজি না হওয়ায় আত্মহত্যা নানা সংকটে হুমকিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে পাচার হয়েছে ৩৫শ’ কোটি টাকা নেত্রকোণায় কাঁচা ঘাস খেয়ে ২৬ গরুর মৃত্যু প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা নাগরিক সুবিধায় নিয়ে আসব ফেনীর সোনাগাজীতে চাঁদা আদায়কালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৮ ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণ গেলো ১২ গবাদিপশুর ফেনীর সোনাগাজীতে আযান দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ফেনীর ফুলগাজীতে ফুটপাত মুক্ত করতে নির্দেশনা নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন নোয়াখালীর চাটখিলে চেম্বারে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ কাদের মির্জার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হয়ে পদ হারাল ছাত্রদল নেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে হেলথ প্রোভাইডার মসজিদ থেকে জুতা চুরি করায় প্রবাসীকে ফেরত পাঠাচ্ছে কুয়েত! ভদ্র স্বভাবের বিগ বসের অপর নাম ‘শিক্ষিত গরু’, দাম ৫ লাখ রাজার পছন্দের খাবার আপেল-মাল্টা-পেয়ারা, ওজন ১১ মণ
  • শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালে ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মামলা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৪  

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়েরসহ ২ জনের নামে দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন চাঁদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ও দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন এ নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকালে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২৯ এপ্রিল জয়নুল আবেদিন নামে এক ব্যক্তি স্পেশাল জজ আদালত ও দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালে ইউপি চেয়ারম্যান খায়েরসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদক চাঁদপুর সমন্বিত কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। ১২ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি করেন, কমলনগর উপজেলার চরজগবন্ধু গ্রামের মৃত মমিন উল্যার ছেলে জয়নুল আবেদিন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল খায়ের একই এলাকার মৃত ইয়াসিন পাটওয়ারীর ছেলে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। অপর অভিযুক্ত বেলাল হোসেন জুয়েল উপজেলার চরফলকন গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে।

মামলা সূত্র জানা যায়, অভিযুক্ত খায়ের মাতাব্বরনগর মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক ছিলেন। ২০১১ সালের ২৭ আগস্ট তিনি সাহেবেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর ইউনিয়নের ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

অনারেবল উইমেন বেনেফিট (ভিডিডব্লিউবি) কার্যক্রমের আওতায় ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮৫ জন উপকারভোগী নারী নির্বাচনসহ কার্ড ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে চেয়ারম্যান তার আত্মীয়-স্বজন, স্বচ্ছল ব্যক্তির নামে বেনামে কার্ড করে চাল ও টাকা আত্মসাৎ করেছে।

চেয়ারম্যান একটি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেছেন, ইউনিয়নের ৮০-৮৫ শতাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ অন্যত্র চলে গেছে। ভোটার সংখ্যাও অনেক হ্রাস পেয়েছে। এতে চেয়ারম্যান নিজেই কমলনগরের মানচিত্র থেকে ইউনিয়নটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কিন্তু উপজেলা সর্বোচ্চ ১৫৩০টি জেলেদের ভিজিএফ কার্ড, ৫৮৫টি বিধবা ভাতা কার্ড, ৮৭৭টি বয়স্কভাতার কার্ড, ৩৪০টি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ও ২৮৫ জনের ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দের টাকা ও চাল আত্মসাৎ করে আসছেন চেয়ারম্যান।

কমলনগরের বিভিন্ন এলাকায় ১১টি দলিলে চেয়াম্যান নিজ নামে ৫৪৬.০৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিগুলোর মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। রামগতিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমের নামে ২০ লাখ টাকায় ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন চেয়ারম্যান। সেখানে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ৫ তলা ভবন করে তারা বসবাস করছেন। ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ কমলনগর রেজিস্ট্রি অফিসের ৯৩৭ নম্বর সাফ কবলা দলিল মূল্যে বাগান ও ভিটা শ্রেণির ১৩ শতাংশ জমি কেনে চেয়ারম্যান। যার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এছাড়াও ২১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৭ মার্চ ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় পৃথক স্থানে ৩১ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের নিজ নামে প্রাইভেট কার কিনেছেন। তার নিজ নামে ও পরিবারের লোকজনের নামে ঢাকায় আনুমানিক ৫ কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করেছেন। মামলার ২ নম্বর আসামি বেলাল হোসেন জুয়েল বিভিন্নভাবে চেয়ারম্যানকে সহযোগীতা করে আসছেন বলে মামলার বাদি জানিয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, ‘জয়নুলের বাড়ি চরলরেন্স ইউনিয়নে। তিনি আমার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়। ব্ল্যাকমেইল করে তিনি আমার কাছ থেকে নাগরিক সনদ নেন। আমার এলাকায় কাজীর পোস্টটি খালি। সেখানে তিনি আবেদন করেন। কিন্তু আমি স্থানীয় একজনের পক্ষে সুপারিশ করি। এরমধ্যে জয়নুল কাগজপত্র ঠিক করে নিজের নামে আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কাজী নিজাম উদ্দিন আদালতে মামলা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে রেখেছে। জয়নুল মনে করেছে ঘটনাটি আমি করেছি। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো কিছু না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’