ব্রেকিং:
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে প্রসূতিকে বের করে দিলেন আয়া,অতঃপর . মাদরাসায় বাংলায় সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ সরকার সবার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিত করছে দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই: খাদ্যমন্ত্রী নতুন স্ন্যাপড্রাগন আসছে এ সপ্তাহেই ১৮ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৬২ মাসেও অ্যান্টিবায়োটিক চেনাতে চিহ্ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সরকারের ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ দেওয়ায় ব্যাপক ভাঙচুর, পুলিশ মোতায়েন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, গলায় পোড়া দাগ গরু-ছাগলের মাংসে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত টানা ২৮ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য দেশ, কমলো শনাক্ত বন্যার্তদের দুঃসময়ে সরকার পাশে রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক্তন স্বামীর হামলায় আহত চিকিৎসক স্ত্রী ডাইনিং বন্ধ, হোটেলে উচ্চমূল্য: বিপাকে কুবি শিক্ষার্থীরা দূষণে বছরে ৯০ লাখ মানুষের প্রাণহানি: গবেষণা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৩৭৫২ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ‘শুধু চোর নয়, চোরাই মোবাইল বিক্রেতারাও গ্রেফতার হবে’ কক্সবাজারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ নয়: প্রধানমন্ত্রী চরাঞ্চলের জনগণের ক্ষুধা-দারিদ্র্য হ্রাসে প্রকল্প নেয়া হয়েছে
  • বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

‘আর মারিস না বাবা, আমি তোর মা’, তবু মন গলেনি ব্যাংকার ছেলের

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২২  

দিনাজপুরে ৮০ বছর বয়সী মাকে মারধর করে দুই হাত ভেঙে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলে রাজীব আলী ডন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তার স্ত্রীও।

ঈদের দিন মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে দিনাজপুর শহরের বড়বন্দর নতুনপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ডনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার রাজীব আলী ডন ন্যাশনাল ব্যাংক নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার স্ত্রী খালেদা বেগম গৃহিণী।

নির্যাতনের শিকার মা রেজিয়া খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি বড়বন্দর নতুনপাড়া মহল্লার বাহার আলীর স্ত্রী। তার স্বামীও দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, রেজিয়ার দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে মারা গেছেন। স্বামীও মারা গেছেন অনেক আগে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ছেলে রাজীব আলী ডন ব্যাংক কর্মকর্তা। ছোট ছেলে ও বড় ছেলের রেখে যাওয়া এক সন্তানকে নিয়ে বড়বন্দর নতুনপাড়ায় থাকেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের কাছে বসতবাড়ির ১৬ শতাংশ জমি লিখে নিতে চাচ্ছিলেন ছেলে ডন। কিন্তু মা রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ছেলের নির্যাতনের কারণে তিন শতাংশ জমি লিখে দেন। কিন্তু সম্পূর্ণ জমিই লিখে নেয়ার জেদ ছাড়েননি। বাকি জমি লিখে না দেওয়ায় নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। এ নিয়ে ১৯ রমজান মাকে নির্যাতন করেন ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলে। সেদিন পরিবারের লোকজন ও পুলিশের সমঝোতায় ছাড় পান তিনি।

ঈদের দিন রাত ৮টার দিকে রেজিয়াকে বাকি জমি লিখে দিতে চাপ দেন ছেলে ও তার স্ত্রী। এতে রাজি না হওয়ায় তারা অমানবিক নির্যাতন করেন। চলাফেরার সাহায্যে ব্যবহার করা লাঠি কেড়ে নেন। পরে সেই লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। হাত-পা, পিঠ, পেটসহ সারা শরীরে আঘাত করা হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ফের বাইর থেকে বাড়িতে এনে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় বড় ছেলের সন্তান (নাতি) লিমান ফুফুদের খবর দেন। তারা ও এলাকাবাসী এসে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নির্যাতনের ফলে দুই হাত ভেঙে গেছে রেজিয়ার। আঘাত পেয়েছেন মাথায়।

ছোট মেয়ে জনতা ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা সামসি জাহান বকুল বলেন, এর আগেও মাকে মারধর করেছে ভাই। এবার মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়ে নিজেই মায়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমি এ ঘটনায় মামলা করেছি।

আরেক মেয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, আমার বাবা শিক্ষক, মাও শিক্ষক ছিলেন। ভাইবোন সবাই শিক্ষিত। বাবা-মা আমাদের শিক্ষিত করেছেন। সেই পরিবারে মাকে মারধর করা হয়েছে, এটি মেনে নেয়ার মতো না।

অপারেশন থিয়েটারের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রেজিয়া বেগম বলেন, বারবার ছেলেকে বলছিলাম- ‘বাবা আমি তোর মা, আমাকে আর মারিস না। আমি মরে যাবো। আমি বংশের সবচেয়ে বড় সন্তান। তোর বাবা কিংবা আমার বাবা ও পরিবারের কোনো লোকজন আমার গায়ে কখনো হাত তোলেনি।’ কিন্তু আমার ছেলে কোনো কথা না শুনেই আমাকে মারধর করে। ছেলের নির্যাতনে আমি হাসপাতালে। আর যে ছেলেকে আদর-যত্ন করে মানুষ করেছি সেই ছেলে জেলে। আমি দেশের প্রচলিত আইনে এ ঘটনায় ছেলের বিচার চাই। যেন কোনো মা ছেলের নির্যাতনের শিকার না হয়।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ওই ছেলে থানায় এসেছিল। কিন্তু পুলিশ মাকে মারধরের বিষয়টি জানার পর তাকে আটক করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।