ব্রেকিং:
৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া সেই শিক্ষকের জামিন শাহরাস্তিতে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষার ২২দিনে ৩৭৩ অভিযান-মোবাইল কোর্ট সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে চাঁদপুরে চিকিৎসকদের মানববন্ধন কেন কুমিল্লা নামেই বিভাগ হওয়া উচিত হুইল চেয়ারে স্বপ্ন জয়ের পথে কুমিল্লার শাহানাজ কেন্দ্রের নাম ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা’, ভুল নাকি জালিয়াতি! পুকুরে নয়, মাজারের পাশের বাড়ি থেকে হনুমানের সেই গদা উদ্ধার কুমিল্লা মুরাদনগরে পুলিশের হাতে চারজন পতিতা ব্যবসায়ী আটক সাসপেন্সে ভরপুর ‘মিশন এক্সট্রিম’র ট্রেলার (ভিডিও) কোথায় খালেদার সেই আপোষহীনতা? শামিকে পাকিস্তানের চর বললো ভারতীয় উগ্র সমর্থকরা ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন কঙ্গনা ‘আমি পোলার্ড-রাসেল নই’ বললেন মুশফিক নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ নেতা-সমর্থকসহ গ্রেফতার ১১ রিজেন্টের সাহেদকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সুপারিশ ও ডিও লেটার ৩ কোটি টাকা দিতে হবে! রিক্সাচালককে নোটিশ পাঠাল আয়কর বিভাগ বিয়েবাড়িতে মাংস বেশি চাওয়ায় বরপক্ষকে পেটাল কনেপক্ষ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ‘ক্রিকেটার’ বীথির সাফল্যের পেছনের গল্প
  • সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৮

  • || ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাংলাদেশে কোরান অবমাননার শাস্তি কি?

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

কুমিল্লা‌ সদরের নানুয়ার দিঘীরপাড়ের পুজামণ্ডপে পবিত্র কুরআনুল কারীম অবমাননার ঘটনায়  ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এই ঘটনায় জড়ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে, মোটিভের জন্য তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এখানে অনেকের প্রশ্ন, দায়ী ব্যক্তিবর্গের কি শাস্তি হবে বাংলাদেশের আইনে। চলুন পাঠক, জেনে নেই আমাদের আইনে কি আছে এই বিষয়ে? 

ধর্ম অবমাননা কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধগুলো আমাদের বিদ্যমান আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে বহু বছর আগে থেকেই। দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিভিন্ন ধারায় ধর্ম অবমাননার যে শাস্তি ছিল ২০০৬ সালে এসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সেই শাস্তি আরো বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের '২৯৫/ক' ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অসদুদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা কিংবা দৃশ্যমান অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংশ্লিষ্ট ধর্মটিকে বা কারো ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা করে বা অবমাননার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে ২ বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের মূল আইনে এ ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধারাটি যুক্ত করা হয়।

এই ধারার অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে:
ক. অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছু বলেছিলেন বা কোনো শব্দ লিখেছিলেন বা কোন ভাবভঙ্গি করেছিলেন।
খ. অভিযুক্ত ব্যক্তি ওইরকম কাজ করে কোনো ধর্মকে বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করেছিলেন।
গ. অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত আনার অভিপ্রায়ে ইচ্ছাকৃত এবং বিদ্বেষাত্মকভাবে করেছিলেন।

এ বিষয়ে উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তসমূহঃ 
(১) কোনো কাজ ইচ্ছাকৃত হতে পারে কিন্তু বিদ্বেষাত্মক নাও হতে পারে। ২৯৫/ক ধারার অপরাধের জন্য এ দুই প্রকার অভিপ্রায়ই থাকা প্রয়োজন। অন্য কথায়, জেনে, শুনে, দেখে, বুঝে এবং বিদ্বেষাত্মকভাবে যে ব্যক্তি কোন ধর্মকে আঘাত করে, সেই ব্যক্তি এই ধারায় দোষী হয়

(২) বিদ্বেষ বলতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অকল্যাণ কামনা করা বোঝায়। এটাই এই শব্দের সাধারণ অর্থ। কিন্তু আইনে বিদ্বেষাত্মকভাবে বললে অন্যের ক্ষতিজনক কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করাকে বোঝায়। যখন কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ক্ষতিকর কোনো কাজ করেন, তখন তিনি বিদ্বেষাত্মকভাবে কাজ করেছিলেন বলে ধরা হয়। সাধারণভাবে বিদ্বেষ বলতে গেলে অন্যের সাথে শত্রুতা বা অন্যের বিরুদ্ধে অমঙ্গল কামনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু আইনের ভাষায় বিদ্বেষাত্মক বলতে অন্যের ক্ষতি হতে পারে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করা বোঝায় ।

(৩) অন্য দেশে একই প্রকার বই প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয় নাই, একই কথা বলে বা এই অজুহাত তুলে কোনো ধর্মীয় অবমাননাকর বই রচনা বা প্রকাশের দায় হতে মুক্তি পাওয়া যায় না।

(৪) অন্য ব্যক্তি তার ধর্ম আক্রমণ করেছেন বলে তিনি ঐ ব্যক্তির ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কিছু লিখেছেন, এই অজুহাতও আইনে গ্রহণযোগ্য নয় ।

(৫) ধর্ম প্রবর্তক, প্রচারক এবং মুনী-ঋষীদের সম্পর্কে কটাক্ষ করা বা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের কুৎসা কাহিনী বর্ণনা করা বা প্রচার করা এই ধারানুযায়ী অপরাধ (লাহোর বনাম সম্রাট)।

(৬) ২৯৫ক ধারার উপাদান তখনই পূর্ণ হয় যখন এটা প্রতিষ্ঠিত হয় যে পরিকল্পিতভাবে এবং বিদ্বেষত্মাকভাবে কোনো ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে। যখন কোনো ধর্মকে ধর্মীয় চেতনা অবমামনা করার জন্য আপত্তি করা হয় এবং এমন কোন নির্ভরযোগ্য বিষয় থাকে না যার উপর ভিত্তি করে তাকে সমর্থন করা যায় তখন আদালত এটা অনুমান করে নিতে পারে যে, এটা পরিকল্পিতভাবে এবং বিদ্বেষাত্মকভাবে করা হয়েছে।