ব্রেকিং:
‘স্মার্ট দেশ’ গড়তে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ ২৬ প্রকল্প রাজশাহীতে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না - রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী এখন দেশের সবচেয়ে সুন্দর শহর: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি আমাদের লাল কার্ড দেখায়, তারা এখন কই: ওবায়দুল কাদের ২৬ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ১৪ বছরে বদলে গেছে রাজশাহী উৎপাদনে ফিরছে ॥ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসছে দেশের শান্তি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী দেবীদ্বারে আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, জানেন না উপজেলা সম্পাদক কুমিল্লায় ৬ মাসের সাজা নিয়ে পলাতক দশ বছর,অবশেষে আটক পূর্ব শাহতলীতে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন চাঁদপুর সদর ও পৌর আওয়ামী লীগের মতবিনিময় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা চাঁদপুরে খেলাফত যুব মজলিশের বিক্ষোভ মিছিল চাঁদপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীরা পেল হ্যান্ডওয়াশ টেন্ডারকৃত রাস্তায় কাজ না করিয়ে অন্যস্থানে করায় মানববন্ধন চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ব্র্যাক শিক্ষা তরীর উদ্বোধন
  • সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আসামি

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩  

‘আমি খুন করি ন (নাই)। আমি অন্যায় করি ন। ও আল্লাহ, আঁই (আমি) অন্যায় করি ন।  ও আল্লাহ, আল্লাহ গো, আমি কিছু করি ন। আমার মা-বাপ কেউ ন।’

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে এজলাসের সামনে চিৎকার করে এসব কথা বলছিলেন বৃদ্ধা নুর জাহান বেগম (৫৭) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ইসমাইল  (৩০)। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের মৃত মমিন উল্যাহর ছেলে। 

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইসমাইলের ভাই ইমরান ঢাকা পোস্টকে বলেন, রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার ভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এজলাসের সামনে বসে পড়েন। আমি দূর থেকে ভাইকে বলেছি- আমি আছি। আমাদের বাবা-মা কেউ নেই। দেখি কি করা যায়।

সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মাকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার ঘটনায় ছেলে হুমায়ুন কবির হুমুসহ (২৭) সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিলুফার সুলতানা এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করে।

হুমায়ুন কবির হুমু ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিরব (২৬), নুর ইসলাম (৩২), কালাম (৩০), সুমন (৩৩), হামিদ (২৮) ও মো. ইসমাইল (৩০)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুবর্ণচর থানা পুলিশের পরিদর্শক ইব্রাহীম খলিল  বলেন, আমরা তদন্তে ইসমাইলের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। ইসমাইল সর্বপ্রথম বৃদ্ধার হাতের ব্যাগ ও শাক নিয়ে বাড়িতে আসেন এবং সেগুলো তার স্ত্রীর হাতে দেয়। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, নুর জাহানের প্রথম সংসারের ছেলে বেলাল হোসেন ২০১৮ সালে মারা গেলে তার রেখে যাওয়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির ঋণের প্রায় ৪ লাখ টাকা পরিশোধ নিয়ে দ্বিতীয় সংসারের ছেলে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর জেরেই ঠান্ডা মাথায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হুমায়ুন। আর সেই হত্যাকাণ্ডে বন্ধু, প্রতিবেশী ও স্বজনের সহায়তা নেন তিনি। গত ২০২২ সালে ৬ অক্টোবর রাতে নূর জাহানকে প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পাঁচ টুকরা করে প্রতিবেশী পাওনাদারদের ধানখেতে রেখে আসা হয়।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল  বলেন, আদালত মামলার বিষয়টি নিয়ে খুব দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনাটিকে মর্মস্পর্শী বলে আখ্যা দিয়েছেন।  যে মা সন্তানকে জন্ম দিলেন সেই সন্তান কীভাবে মাকে হত্যা করে। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। এটি একটি নজিরবিহীন রায় হয়েছে। সব আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।