ব্রেকিং:
আজ থেকে বিপিএলে থাকছে ‘বিকল্প ডিআরএস’ কমিউনিটি ক্লিনিকে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন: পরিকল্পনামন্ত্রী এবার আইপিএলের সব খেলা এক শহরে! মৌসুমী ঝড়ে আফ্রিকার তিনদেশে নিহত ৭০ জুমার দিনে যে আমল করলে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে কুমিল্লায় জনপ্রিয় হচ্ছে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার ৯ প্রার্থীর অভিযোগ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৫৬ লাখ, শনাক্ত সাড়ে ৩৬ কোটি লক্ষ্যমাত্রার ৭ ভাগ আমন সংগ্রহ হয়েছে ফেনীতে নৌকা ঠেকাতে আনারসে ভোট চাইলেন এমপি একরামুল মসজিদের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্লাস্টিকের লেমিনেশন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চিলির মাঠে মেসিহীন আর্জেন্টিনার দাপুটে জয় কোম্পানীগঞ্জে এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রাথমিকে অনলাইনে ক্লাসসহ ৬ নির্দেশনা সরকারি ব্যাংকের সব নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চাঁবিপ্রবির জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের খবর ভিত্তিহীন: শিক্ষামন্ত্রী ১৫ বছরের গোপন সম্পর্ক, কথা না রাখায় দেবরের ঘরে অনশনে ভাবি পার্কে প্রেমিককে জুতাপেটা, আটক করে টাকা নিলেন মেম্বার আখাউড়ায় পাঁচ মাদক সেবনকারীর কারাদণ্ড
  • শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৫ ১৪২৮

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাতের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে সন্ত্রাসী গ্রুপের রাজত্ব

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিনের আলোতে যেমন-তেমন, রাতের আঁধারে পরিণত হয় আতঙ্ক আর ভয়ের নগরীতে। রাত হলেই ক্যাম্পগুলোতে রাজত্ব করে আরসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ। ক্যাম্প দখল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে তারা।

প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা এবং উখিয়ার একটি মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলায় ৬ রোহিঙ্গা নিহতের পর থেকে ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ কারণে সন্ধ্যার পর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকেই বের হতে চায় না ক্যাম্পের বাসিন্দারা। মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে মিয়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ রোহিঙ্গারাও আছে নিরাপত্তাহীনতায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই মিয়ানমারের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আরো সক্রিয় হয়ে উঠছে। মুহিবুল্লাহ হত্যা, মাদরাসায় হামলার মাধ্যমে তারা ক্যাম্পে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা থামাতে না পারলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলছেন, মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মিই (আরসা) মূলত ক্যাম্পগুলোতে তৎপর। আরসার সদস্যরা আল ইয়াকিনসহ কয়েকটি ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসা বা আল ইয়াকিনের কোনো অস্তিত্ব নেই।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ ইসমাইল ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের নেতা জাফর আহমদ বলেন, ক্যাম্পে বসবাসকারী কিছু রোহিঙ্গা যুবক এসব সন্ত্রাসী গ্রুপকে গোপনে সহযোগিতা করছে। দিনে ক্যাম্পে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও রাতে ভয়াবহ আতঙ্কে থাকতে হয় সবাইকে। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কারণে ক্যাম্পে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ৭৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪৯ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাস্টার মুন্না গ্রুপ, মৌলভী ইউসুফ গ্রুপ, শাহ আজম গ্রুপ, সালমান শাহ গ্রুপ, আব্দুল হাকিম বাহিনী, নবী হোসেন বাহিনীসহ অসংখ্য ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছে। তারাই আরসা অথবা আল ইয়াকিন নাম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তথাকথিত আরসা নামধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ১১৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আরো ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। তথাকথিত সন্ত্রাসী গ্রুপের নামে কাউকে অপরাধ কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।