ব্রেকিং:
আন্দোলনকারীরা বক্তব্য দিতে চাইলে আপিল বিভাগ বিবেচনায় নেবেন সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে : ডিএমপি গমের উৎপাদন বাড়াতে সিমিট ও মেক্সিকোর সহযোগিতা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকুন : আরাফাত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালকের শ্রদ্ধা মোদির সাথে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত গাজায় শান্তি রক্ষা করবে আরব যৌথ বাহিনী: বাইডেন কোটা আন্দোলন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী কি বললেন? ‘পুলিশের গুলিতে কোনো শিক্ষার্থী মারা যায় নি" ভারত থেকে আমদানি হলো ১১টি বুলেটপ্রুফ সামরিক যান সৌদি আরবে হামলার হুমকি, স্পর্শকাতর স্থানের ভিডিও প্রকাশ পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা, সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বহিষ্কার বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ২১ চুক্তি ও সাত ঘোষণাপত্র সই লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রযুক্তি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ঝিনুকে তৈরি মুক্তার গহনা প্রধানমন্ত্রীর হাতে লক্ষ্মীপুরে হাত-পা বেঁধে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর ডাকাতি নোয়াখালীতে প্রকৌশলীসহ সেই চার শিক্ষক কারাগারে নোয়াখালীতে পরীক্ষা হলে হট্টগোল-খোশগল্প চট্টগ্রামে এডিসি কামরুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের আদেশ
  • শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

মামলা করে আতঙ্কে কৃষক, ১৩ দিনেও আসামি অধরা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৩  

 লক্ষ্মীপুরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা করায় মো. জাহাঙ্গীর নামে এক কৃষককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার নিয়ে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও মামলার আসামি মো. সেলিম ও শিউলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবার (২১ জুন) বিকেলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন। 

এদিকে মামলা সরিয়ে নিতে জাহাঙ্গীরকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মাসুদ রানা আসামিদের মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

বাদী জাহাঙ্গীর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ির মৃত আবদুল মোতালেবের ছেলে। আসামি সেলিম বাদীর ছোট ভাই। অপর আসামি শিউলি বাদীর ছোটভাই মো. সুমনের স্ত্রী।

এজাহার সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর মালদ্বিপ প্রবাসী ছিলেন। বিদেশ থাকাকালীন তিনি পৌনে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ২০০৫ ওই জমিতে তিনি একতলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০০৯ সালে তিনি দেশে চলে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এরমধ্যে ছোট ভাই সৌদি প্রবাসী সেলিম, সুমন ও মালদ্বিপ প্রবাসী আলমগীরের ঘর না থাকায় জাহাঙ্গীর নিজের বাসায় তাদের থাকতে দেন। এদিকে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে একটি বাসায় থাকতে কষ্ট হওয়ায় জাহাঙ্গীর তাদেরকে নিজস্ব জমিতে ঘর নির্মাণ করতে বলেন। এতে তারা জাহাঙ্গীর বাসায় নিজেদের মালিকানা দাবি করেন। এনিয়ে একাধিকবার তারা জাহাঙ্গীরের গায়ে হাত তোলেন ও বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেন। গত ৯ জুন রাত পৌনে ১০ টার দিকে বাসার কেচি গেটের ভেতরের অংশ তালা মেরে সেলিম ও শিউলি তার ওপর হামলা করেন। এসময় সেলিম ধারালো দা দিয়ে জাহাঙ্গীর মাথায় কোপ দেয় ও শিউলি রড দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করে। এতে জাহাঙ্গীরে মাথায় রক্তাক্ত জখম ও হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় স্ত্রী শিল্পি আক্তার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৬ দিন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৪ জুন জাহাঙ্গীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী অঞ্চল চন্দ্রগঞ্জ আদালতে সেলিম ও শিউলির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। 

বাদীর আইনজীবী মো. লুৎফুর রহমান রহিম গাজী জানান, আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানাকে এফআইআর দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী জাহাঙ্গীর জানান, ১৫ জুন আদালতের নির্দেশনায় চন্দ্রগঞ্জ থানা এফআইআর দাখিল করেন। এরপর প্রতিদিনই আসামি সেলিম ও শিউলিকে গ্রেপ্তারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুল আউয়ালকে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছি। কিন্তু তিনি তাদেরকে গ্রেপ্তার করেননি। উল্টো মামলাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সেলিম বিভিন্নভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে সেলিমদেরকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ রানা মদদ দিচ্ছে। 

অভিযুক্ত সেলিম বলেন, জাহাঙ্গীর আমার ভাবি শিউলিকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে তিনি আমাকে মারধর করেন। এসময় হাতাহাতির একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর পড়ে যান। এতে তার হাত ভেঙে যায়। সাজানো ঘটনায় মামলা তিনি আমাদেরকে হয়রানি করছেন। 

হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মাসুদ রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি উভয়পক্ষকে ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য বৈঠকে বসতে বলেছি। কিন্তু তারা রাজি হচ্ছে না। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল আউয়াল বলেন, বাদী একাধিকবার আমাকে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। কিন্তিু আমি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারিনি। মামলাটির তদন্তে আমি গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল গিয়েছি। মামলার দ্বিতীয় আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। প্রথম আসামি সেলিম পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।