রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বিয়েতে মনের মত ছবি পেতে…

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত : ০৪:৪৬ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার

ধুমধাম করে বিয়ে হচ্ছে অথচ ফটোগ্রাফি হবে এমনটা তো হতেই পারেনা! বিয়ে মানেই সুন্দর সুন্দর ছবি, আর বিয়ের ছবি মানেই ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। বর্তমানে বিয়েতে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি আবশ্যক বিষয় হয়ে পড়েছে। ফটোগ্রাফি ছাড়া বিয়ে অনুষ্ঠান যেন জমতেই চায় না। তবে জানেন কি? সুন্দর সুন্দর পোজের ছবি তুলতে চাইলেও ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় পছন্দমত ছবিও হয়না। তাই আজ জানাবো বিয়ে মৌসুমে ফটোগ্রাফির কিছু টিপস-

১. বিয়ের ছবিগুলোই পরবর্তী জীবনে মিষ্টি স্মৃতির বাহক। তাই ওয়েডিং ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে খোঁজ নিন পরিচিত কোনো দক্ষ ফটোগ্রাফার রয়েছে কিনা। অপরিচিত যেকোনো ফটোগ্রাফারের সামনে পোজ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। তাই প্রথমে আশেপাশের পরিচিত ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের খোঁজ নিন।

২. কারো ডিএসএলআর ক্যামেরা থাকলেই সে দক্ষ ফটোগ্রাফার হয়ে যায়না। নিজেদের সুন্দর মুহূর্তগুলো বন্দি করতে দক্ষ কাউকেই প্রাধান্য দিন। ক্যামেরাওয়ালা যে কাউকে নিয়ে আসলেই মনের মতো ছবি পাবেন না।

৩. গায়ে হলুদ, বিয়ে, বউ ভাত এই তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য বাজেট অনুযায়ী আগে থেকেই ঠিক করে নেবেন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার।

৪. অনেকেই পরিচিত কোনো ফটোগ্রাফার না থাকলে চিন্তায় পড়ে যান প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার কোথায় পাবেন। চিন্তার কোনো কারণ নেই বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজেই পেয়ে যেতে পারেন সব ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের ডিটেইলস। তাদের নাম, কাজের ধরণ, পারিশ্রমিক, ডিউরেশন যাবতীয় সবকিছুই খুঁজে পাবেন ফেইসবুক পেইজে। শুধু নক করে কথা বলে নিলেই সব জানতে পারবেন।

৫. সব সময় যে আপনি রেডি হয়ে পোজ দিবেন আর ফটোগ্রাফার সুন্দর ছবি তুলবে তা কিন্তু নাও হতে পারে। আপনার চোখের অজান্তে বিয়ের আবেগঘন মুহূর্তের স্বতঃস্ফূর্ত মুহুর্তের ছবিগুলোও হতে পারে আপনার সবচেয়ে পছন্দের ছবি৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে বলি “ক্যান্ডিড”। তাই মন থেকেই পুরো প্রোগ্রামটা উপভোগ করুন। শুধু ক্যামেরার দিকে তাকালেই নয়, ফটোগ্রাফার নিজেই আপনার স্বতঃস্ফূর্ত মুহুর্ত গুলো বন্দী করে রাখবে। ফটোগ্রাফারকেও সুযোগ দিন।

৬. বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন রয়েছে যা পালন করতে হয়। যা জীবনে কেবল একবারই পাবেন। তাই প্রত্যেকটি মুহূর্ত ধরে রাখার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন স্পেশাল মুহূর্তের ছবিগুলো তোলা হচ্ছে কিনা। পরে ছবি গুলো না পেলে আপনারই কষ্টের শেষ থাকবেনা।

৭. বিয়েতে তো প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার থাকবেই। তাই বলে শুধু পোজ দিয়ে তার উপরই নির্ভর করবেন না। আশেপাশের কাজিন, কাছের দূরের বন্ধুবান্ধব আর অন্যান্যদের মাধ্যমেও অনেক ছবি তোলা হয়ে থাকে। সেদিকেও নজর দিতে পারেন। তাদের হাতেও পেতে পারেন অসাধারণ কিছু মুহূর্তের ছবি।

৮. পোজ দেয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন রঙঢং করতে গিয়ে যেন অকৃত্তিম কিছু না লাগে। মনে রাখবেন এটা আপনাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট তাই প্রত্যেকটা মুহুর্ত তুলে ধরুন ন্যাচারালভাবে।

৯. বিয়েতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ফটোগ্রাফারের সামনে ছবি তোলার সময় কোনো কমন কিছু পোজ ছাড়া কিছু মাথায়ই আসেনা। এই ঝামেলা এড়াতে চাইলে বিয়ের আগে বিভিন্ন পেইজ থেকে কালেকশন করতে পারেন নানা পছন্দসই ছবি। সেই কালেকশন অনুযায়ী ধরে রাখতে পারেন মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দী করে।

১০. বিয়েতে কাপল ছবি তো থাকবেই, পাশাপাশি গ্রুপ ছবির দিকেও নজর দিন। নিয়মিত যোগাযোগ বা আসা যাওয়া না থাকলেও বিয়েতে প্রায় মামা, চাচা, খালা, দাদা, নানি আত্মীয় স্বজন সবাই আসেন তাই প্রত্যেকের সঙ্গেই নিজেকে ফ্রেমবন্দী করার চেষ্টা করুন। স্মৃতির এলবামে এই ছবিগুলোই একদিন অনেক কিছু মনে করিয়ে দেবে।

সুন্দর হোক আপনার স্পেশাল মুহূর্তগুলো। সামনে পোজ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারেন। তাই প্রথমে আশেপাশের পরিচিত ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের খোঁজ নিন।