ব্রেকিং:
আন্দোলনকারীরা বক্তব্য দিতে চাইলে আপিল বিভাগ বিবেচনায় নেবেন সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে : ডিএমপি গমের উৎপাদন বাড়াতে সিমিট ও মেক্সিকোর সহযোগিতা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকুন : আরাফাত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালকের শ্রদ্ধা মোদির সাথে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত গাজায় শান্তি রক্ষা করবে আরব যৌথ বাহিনী: বাইডেন কোটা আন্দোলন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী কি বললেন? ‘পুলিশের গুলিতে কোনো শিক্ষার্থী মারা যায় নি" ভারত থেকে আমদানি হলো ১১টি বুলেটপ্রুফ সামরিক যান সৌদি আরবে হামলার হুমকি, স্পর্শকাতর স্থানের ভিডিও প্রকাশ পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা, সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বহিষ্কার বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ২১ চুক্তি ও সাত ঘোষণাপত্র সই লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রযুক্তি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ঝিনুকে তৈরি মুক্তার গহনা প্রধানমন্ত্রীর হাতে লক্ষ্মীপুরে হাত-পা বেঁধে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর ডাকাতি নোয়াখালীতে প্রকৌশলীসহ সেই চার শিক্ষক কারাগারে নোয়াখালীতে পরীক্ষা হলে হট্টগোল-খোশগল্প চট্টগ্রামে এডিসি কামরুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের আদেশ
  • শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

এক লাখ টাকার চুক্তিতে সাগরে খুন হন ৪ জেলে

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২১  

দাদন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চার জেলেকে সাগরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি জলদস্যুতার বলে প্রচার হলেও নৌ-পুলিশের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে এসেছে চার খুনের আসল তথ্য। স্থানীয় বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মো. ইউছুফ মিয়া, মো. রাসেল ও আল-আমিন। বিভিন্ন মেয়াদে তাদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত চার জেলে হলেন, রামগতির চর আলেকজান্ডার ইউপির সোনালী গ্রামের নাসির উদ্দিন মাঝি, তার ছেলে মো. রিয়াজ, নোয়াখালীর চর জব্বর এলাকার মো. করিম ও একই এলাকার মো. মিরাজ।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রাম এলাকার নাসির উদ্দিন মাঝি পেশায় একজন জেলে। মাছ শিকারে নদী ও সমুদ্রে তার একটি ট্রলার রয়েছে। তিনি প্রায় ১০ মাস পূর্বে চট্টোগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাটের আড়তদার মো. ইউছুফ মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দাদন নেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওই আড়তে মাছ বিক্রি করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি অভাব-অনটনে পড়ে নাসির মাছঘাটের অপর এক আড়তদারের কাছ থেকে টাকা দাদন নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ মে ইউছুফ ট্রলারসহ নাসির মাঝিকে ঘাট এলাকায় আটকে রাখেন। কিন্তু নাসির কৌশলে ট্রলার নিয়ে পালিয়ে এলাকায় চলে আসেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউছুফ ট্রলারটি নিজের কবজায় নেওয়াসহ নাসিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসিরের ট্রলারের সহযোগী জেলে রাসেল, সুমন, সোহাগ ও আল-আমিনের সঙ্গে ইউছুফ মিয়া এক লাখ টাকায় হত্যার চুক্তি করেন।

পরিকল্পনা ও চুক্তি অনুযায়ী, ১৬ মে চার জেলে রামগতির স্লুইসগেট বাজারের একটি দোকান থেকে ১০টি ঘুমের বড়ি কেনে। পরদিন নাসির, অপর তিন জেলেসহ চারজন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। পরে কৌশলে তারা নাসিরকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় সাগরে মাছ ধরার জন্য নিয়ে যান। সেখানে ২০ মে তারা চায়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে নাসির, রিয়াজ, করিম ও মিরাজকে খেতে দেন। চা খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লে বাকি চারজন মিলে তাদের সাগরে ফেলে হত্যা করে ট্রলারটি চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে ইউছুফকে বুঝিয়ে দেন।

পরে আল-আমিন এলাকায় গিয়ে প্রচার করেন জলদস্যুরা তাদের ট্রলারে হামলা চালিয়েছে। তিনিসহ চার জেলে পালিয়ে আসতে পারলেও নাসির মাঝি ও তিন জেলেকে জলদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন মীরজানের মোবাইল ফোনে রাসেল নামের এক ব্যক্তি ফোন করেন। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, নাসির মাঝিসহ চার জেলে তার হেফাজতে রয়েছেন। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নাছিরের স্ত্রী মীরজান থানায় গিয়ে জানালে পুলিশ লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

উপজেলার বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ১৫ জুন যশোরের চৌগাছা থেকে রাসেলকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমলনগরের হাজিরহাট এলাকা থেকে আল-আমিন এবং চট্টগ্রাম থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ইউছুফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে কোনো ক্লু পাওয়া না গেলেও মোবাইল ফোন ট্র্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাসেলকে আটকের মধ্য দিয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সুমন ও সোহাগকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।