ব্রেকিং:
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নিকলীর বিকল্প বিজয়নগর বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন প্রশংসায় ভাসছেন নোয়াখালী এসপি দল থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত : শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বিকেলে কুমিল্লায় চেয়ারম্যানের গাড়িতে গুলি আফ্রিকায় শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জসিমের নভেম্বরের শেষের দিকে জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী টিকার বুস্টার ডোজ পেলেন সাড়ে ৫ কোটির বেশি মানুষ সন্ধ্যার মধ্যে ন্যাশনাল গ্রিড চালু করার চেষ্টা করছি সরকারি সফরে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান ঢাকায় আসছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান মোবাইলের লক খুলতে গিয়েই ধরা পড়ল ডাকাত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন সুবর্ণচরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বসতভিটা দখলের অভিযোগ দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ মাস বাড়বে না ভোজ্যতেলের দাম টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ টার্মিনাল ছাড়া মহাসড়কে টোল আদায় করা যাবে না যৌনপল্লী চালান বিজেপি নেতা!
  • শনিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২৩ ১৪২৯

  • || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধর্ষণের পরে খুন, ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের শিকার হয়েছিল ২০০ নাবালিকা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২  

৭৪ বছর বয়সী পেদ্রো আলোনসো লোপেজ। যার নাম শুনলে এখনও শিউড়ে ওঠেন কলম্বিয়ার মানুষ। সে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়ানক সিরিয়াল কিলার হিসেবে লোপেজের নাম জ্বলজ্বল করছে পুলিশের খাতায়। 

১৯৯৮ সালে কলম্বিয়ার মানসিক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর যেন বেমালুম উবে গিয়েছেন লোপেজ। তিনি লোপেজ কোথায়, আদৌ বেঁচে আছেন কী না, এখন আর তা জানা যায় না।  ৪০০ বেশি খুনের অভিযোগ রয়েছে লোপেজের বিরুদ্ধে। শুধু খুন নয়, নাবালিকাদের ধর্ষণ করতেন লোপেজ। তারপর মেরে ফেলতেন অনায়াসে। লোপেজের শিকার ছিল মূলত আদিবাসী নাবালিকারা। 

 

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ

কলম্বিয়া পুলিশের তথ্য বলছে, ১৯৬৯ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে অন্তত ২০০ নাবালিকা তার হাতে নিগৃহীত হয়েছে। সবাইকে নির্মম ভাবে খুন করেছেন লোপেজ। কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডর জুড়ে তার মোট খুনের সংখ্যা ৪১০। লোপেজের নামের সঙ্গে নৃশংসতা যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিল এক সময়। তার নাম দেওয়া হয় ‘আন্দিজের দানব’। পুলিশ, গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন এই ধারাবাহিক খুনি। ১৯৯২ সালে ইকুয়েডরের জেলে বন্দি অবস্থায় লোপেজের একটি সাক্ষাৎকার নেন সাংবাদিক রন লেটনার। সেই সাক্ষাৎকার একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই কলম্বিয়ান এই সিরিয়াল কিলারের কীর্তি আলোড়ন ফেলে দেয় পুরো বিশ্বে। খুন, ধর্ষণের কথা নিজের মুখেই স্বীকার করেছিলেন লোপেজ।

জানা যায়, লোপেজের মা যৌনবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোট থেকে মাকে এই পেশায় দেখেছেন তিনি। লোপেজের শিশুমনে মায়ের কার্যকলাপ গভীর ভাবে দাগ কেটেছিল। যা তার মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। ছোটবেলায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন লোপেজ। ১৯৫৭ সালে নিজের ছোট বোনকে ‘আদর’ করতে গিয়ে মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায় আট বছরের লোপেজ। মা তাকে মারতে মারতে বাড়ি থেকে বার করে দেন। ছোট লোপেজ পালিয়ে যায় রাজধানী শহর বোগোতায়। জীবনের মোড় ঘুরে যায় সেখানেই। 

 

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ

প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে লোপেজ দাবি করেন, বোগোতায় এক ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছিলেন। ১২ বছর বয়সে আমেরিকার এক অভিবাসী পরিবারের হাতে পড়ে কিশোর লোপেজ। তারা তাকে অনাথ আশ্রমে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। দুই বছর পর সেখান থেকেও পালিয়ে যায় সে। কেউ বলেন, ঐ বয়সে আশ্রমের এক পুরুষ শিক্ষকের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন লোপেজ। কেউ আবার বলেন, শিক্ষকের সঙ্গেই পালিয়ে যান তিনি।

লোপেজ জানিয়েছেন, একটি গাড়ি চুরির অপরাধে জেল খাটার সময় কারাগারেই গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। নির্মম ভাবে তার উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর আস্তে আস্তে তার অন্তরের ‘দানব’ প্রকাশ্যে আসে। ধর্ষকদের জেলেই খুন করেন তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে পেরুতে চলে গিয়েছিলেন লোপেজ। সেখানেই ছোট ছোট মেয়েদের চিহ্নিত করে খুন করতে শুরু করেন তিনি।

 

২০০ নাবালিকাকে মেরে ফেলছেন

২০০ নাবালিকাকে মেরে ফেলছেন

নিজেই জানিয়েছেন, ১৯৭৮ সালের মধ্যে ১০০ বেশি নাবালিকাকে খুন করে ফেলেছিলেন তিনি। ঐ বছর এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে প্রথম বার ধরা পড়েন লোপেজ। তারা তাকে মেরে ফেলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আমেরিকার এক সাধু তাকে উদ্ধার করেন বলে দাবি। স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় লোপেজকে। সেখান থেকে দ্রুত মুক্তিও পেয়ে যান। পেরু থেকে আবার কলম্বিয়া চলে আসেন লোপেজ। সেখান থেকে ইকুয়েডর যান। এই সময়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিন জন করে বাচ্চা মেয়েকে খুন করেছেন বলে জানিয়েছেন লোপেজ। তার কথায়, ‘ইকুয়েডরের মেয়েগুলোকে আমার বেশি পছন্দ ছিল। ওরা খুব নিষ্পাপ, শান্তশিষ্ট। সহজেই বিশ্বাস করে নিত আমার কথা।’

১৯৮০ সালের মার্চ মাসে অবশেষে ধরা পড়েন লোপেজ। এক নাবালিকাকে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। তত দিনে ২০০ নাবালিকাকে মারা হয়ে গিয়েছিল তার। মোট খুনের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। শোনা যায়, তিনি নিজেই ৫৩ জন নাবালিকার কবরে পুলিশকে নিয়ে গিয়েছিলেন, যারা তার নৃশংসতার শিকার হয়েছিল। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ১৮ বছর জেল খাটেন লোপেজ। তার পর কলম্বিয়া সরকার তাকে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর এক সাক্ষাৎকারে লোপেজ জানিয়েছিলেন, কারাগারে ভালো ভাবে থাকার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিজেকে তিনি ‘শতাব্দীর সেরা ব্যক্তি’ বলেও দাবি করেছিলেন।

 

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ জেলে

পেদ্রো আলোনসো লোপেজ জেলে

সংবাদমাধ্যমের দাবি, লোপেজকে মানসিক ভারসাম্যহীন ঘোষণা করেছিলেন জেল কর্তৃপক্ষ। ইকুয়েডরের মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। ১৯৯৮ সালে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, লোপেজ সুস্থ। ৫০ ডলারের বন্ডে মুক্তি পান তিনি। তার কিছু দিন পরেই নিখোঁজ হয়ে যান লোপেজ। ২০০২ সালে নতুন একটি খুনের ঘটনায় লোপেজের নাম জড়ায়। কিন্তু পুলিশ তাকে আর খুঁজে পায়নি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ২০০৬ সালে লোপেজকে ‘সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়েছিল। অপরাধকে মহিমান্বিত করার অভিযোগে তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। পরে লোপেজের সেই ‘রেকর্ড’ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

সূত্র: আনন্দবাজার