ব্রেকিং:
আজ থেকে বিপিএলে থাকছে ‘বিকল্প ডিআরএস’ কমিউনিটি ক্লিনিকে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন: পরিকল্পনামন্ত্রী এবার আইপিএলের সব খেলা এক শহরে! মৌসুমী ঝড়ে আফ্রিকার তিনদেশে নিহত ৭০ জুমার দিনে যে আমল করলে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে কুমিল্লায় জনপ্রিয় হচ্ছে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার ৯ প্রার্থীর অভিযোগ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৫৬ লাখ, শনাক্ত সাড়ে ৩৬ কোটি লক্ষ্যমাত্রার ৭ ভাগ আমন সংগ্রহ হয়েছে ফেনীতে নৌকা ঠেকাতে আনারসে ভোট চাইলেন এমপি একরামুল মসজিদের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্লাস্টিকের লেমিনেশন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চিলির মাঠে মেসিহীন আর্জেন্টিনার দাপুটে জয় কোম্পানীগঞ্জে এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রাথমিকে অনলাইনে ক্লাসসহ ৬ নির্দেশনা সরকারি ব্যাংকের সব নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চাঁবিপ্রবির জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের খবর ভিত্তিহীন: শিক্ষামন্ত্রী ১৫ বছরের গোপন সম্পর্ক, কথা না রাখায় দেবরের ঘরে অনশনে ভাবি পার্কে প্রেমিককে জুতাপেটা, আটক করে টাকা নিলেন মেম্বার আখাউড়ায় পাঁচ মাদক সেবনকারীর কারাদণ্ড
  • শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৫ ১৪২৮

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আফ্রিকার দেশেও যেভাবে সরকারি ভাষা হয়ে ওঠে বাংলা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২২  

আফ্রিকার পশ্চিম অংশের ছোট্ট একটি দেশের নাম সিয়েরা লিওন। এখানে দেখা মিলবে, বহু ভাষা এবং সংস্কৃতির সহাবস্থান। জনসংখ্যা সাড়ে ৭৬ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, সুদূর আফ্রিকার এই দেশে অন্যতম একটি সরকারি ভাষার মর্যাদা পেয়েছে বাংলা।

সিয়েরা লিওনকে বলা হয় ‘হিরের খনির গরিব দেশ’। এখানে খনিজ পদার্থের ভাণ্ডার থাকলেও সাধারণ জনগণ দারিদ্রে কষ্টে দিন কাটান। ১৯৬১ সালে ব্রিটিশ শাসক থেকে স্বাধীন হয় দেশটি। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন স্যার মিলটন মারগাই। কিন্তু ১৯৬৪ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেলে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

সে দেশের ১৬টি উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। জনগণের মনে জমতে থাকে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। কলহ বাড়তে বাড়তে স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পরে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। ১৯৯১-তে কিছু বিদ্রোহী দল চেষ্টা করে রাষ্ট্রপতি জোসেফ মোমাহকে পদচ্যূত করতে। তার থেকেই যুদ্ধের শুরু। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সিয়েরা লিওন। কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ঘরছাড়া হন লাখ লাখ মানুষ।

সিয়েরা লিওন সরকার ব্যর্থ হয়েছিল গৃহযুদ্ধ থামাতে। পশ্চিম আফ্রিকার অন্য দেশগুলো একত্রিত হয়েও কোনো মীমাংসা করতে পারেনি। অবশেষে ১৯৯৯ সালে যুদ্ধ থামানোর দায়িত্ব নেয় রাষ্ট্রসংঘ। তাদের শান্তি মিশনে যোগদান করে অনেক দেশ। বাংলাদেশও অংশ নেয়। রাষ্ট্রসংঘের পাঠানো প্রথম দলে ৭৭৫ জন বাংলাদেশি সেনা ছিলেন। যুদ্ধের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে আরো সেনা পাঠানো হতে থাকে।

১২ হাজার বাংলাদেশি সৈন্য পা রাখেন সিয়েরা লিওনের মাটিতে। তারা যেমন বিদ্রোহ থামানোর কাজ করেছেন, স্থানীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়া শুরু করেন। সেখানকার জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। স্থানীয় মানুষেরাও আকৃষ্ট হন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি। এমনি তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠানে বাংলা গানের ব্যবহার শুরু হয়। বিবাদমান উপজাতিগুলোর মধ্যে সম্প্রীতির বোধ জাগিয়ে তোলেন বাংলাদেশি সৈন্যরা। অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনী ততটা আন্তরিকভাবে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশতে পারেননি।

২০০২ সালে শান্তি ফিরে আসে সিয়েরা লিওনে। দেশ পুনর্গঠন এবং বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য বাংলাদেশের কাছে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশি সৈন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে বছরের ১২ ডিসেম্বর বাংলা ভাষাকে অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণা করেন সিয়েরা লিওনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আহমেদ তেজান কাব্বা। তবে এই স্বীকৃতি কেবলই সাম্মানিক। সেদেশে সরকারি কাজকর্ম হয় ইংরেজি এবং ক্রিওল ভাষায়। রাষ্ট্রপতি তেজান কাব্বা ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।

বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশ বাংলা ভাষাকে যে মর্যাদা দিয়েছে, তা সারা বিশ্বে এক অনন্য নজির।