ব্রেকিং:
আন্দোলনকারীরা বক্তব্য দিতে চাইলে আপিল বিভাগ বিবেচনায় নেবেন সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে : ডিএমপি গমের উৎপাদন বাড়াতে সিমিট ও মেক্সিকোর সহযোগিতা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকুন : আরাফাত বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালকের শ্রদ্ধা মোদির সাথে বিমসটেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত গাজায় শান্তি রক্ষা করবে আরব যৌথ বাহিনী: বাইডেন কোটা আন্দোলন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী কি বললেন? ‘পুলিশের গুলিতে কোনো শিক্ষার্থী মারা যায় নি" ভারত থেকে আমদানি হলো ১১টি বুলেটপ্রুফ সামরিক যান সৌদি আরবে হামলার হুমকি, স্পর্শকাতর স্থানের ভিডিও প্রকাশ পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা, সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বহিষ্কার বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ২১ চুক্তি ও সাত ঘোষণাপত্র সই লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রযুক্তি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ঝিনুকে তৈরি মুক্তার গহনা প্রধানমন্ত্রীর হাতে লক্ষ্মীপুরে হাত-পা বেঁধে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর ডাকাতি নোয়াখালীতে প্রকৌশলীসহ সেই চার শিক্ষক কারাগারে নোয়াখালীতে পরীক্ষা হলে হট্টগোল-খোশগল্প চট্টগ্রামে এডিসি কামরুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের আদেশ
  • শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

নিজ হাতে শিশু আরিফাকে হত্যার কারণ জানালেন বাবা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৩  

শিশু জান্নাতুল আরিফা আক্তার হত্যার রহস্য উন্মোচিত করেছে পুলিশ। ফেনীর দাগনভুঞায় ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি ও উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই শিশু জান্নাতুল আরিফা আক্তারকে (১০) হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় ঘাতক বাবা টিপু মিয়া।

গ্রেফতারের পর মেয়েকে হত্যার কারণ উল্লেখ করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার তাসলিম হুসাইন (সোনাগাজী সার্কেল) ও দাগনভুঞা থানার ওসি মো. হাসান ইমাম সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।

পুলিশ জানায়, ৯ বছর আগে উপজেলার মধ্যম জয়নারায়ণপুর গ্রামের পদুয়া বাড়ির কবির আহমেদের ছেলে অটোরিকশাচালক টিপু মিয়ার সঙ্গে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের করিম মেম্বার বাড়ির আলী আহমদের মেয়ে রোমানা আক্তারের ডিভোর্স হয়। ওই সময় ছয় মাস বয়সের আরিফা মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকত। তার বয়স এখন ১০ বছর, সে স্থানীয় সিন্দুরপুর অদুদীয়া নুরানি মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণিতে পড়ত।

মায়ের ডিভোর্সের পর আদালতে মামলা চলে আসছিল। একপর্যায়ে আদালত ছয় শতক সম্পত্তি নিহতের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রতি মাসে মেয়ে আরিফার ভরণপোষণের জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এরপর গত ১৭ জুন নানার বাড়ি থেকে বেড়ানোর কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন ঘাতক বাবা টিপু মিয়া। ২১ জুন দুপুরে বসতঘর থেকে ২০ গজ দক্ষিণে মুখে গামছা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন তিনি। পরে মেয়ের খোঁজে এলাকায় মাইকিং করেন। পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে নিহতের নানাকে ফোন করে জানান ঘাতক বাবা টিপু।

ওই দিন বাদ মাগরিব শিশু জান্নাতুল আরিফা আক্তারের লাশ পুকুরে ভেসে উঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরদিন লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে নানার বাড়িতে দাফন করে। নিহত আরিফার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন মা রোমানা।

পরে পুলিশের একাধিক টিম রহস্য উন্মোচনে কাজ করে। মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের জন্য পুলিশ আরিফার মরদেহ প্রাথমিক সুরতহালে নখের আঁচড় দেখতে পায়।  ঘাতক পিতা টিপুর হাতের নখের আঁচড়ের মিল ছিল। শিশু আরিফা বাঁচার জন্য চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে টিপুকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী পাইপফিটার মিস্ত্রি আরাফাত বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাই। যাওয়ার সময় বাবা-মেয়েকে দেখেছি পুকুরের উত্তর-পশ্চিমপাড়ে। বাড়ি থেকে মা ফোন করে জানান আরিফাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকায় মাইকিং চলছে।

তিনি বলেন, যেখানে বাবা ও মেয়েকে দেখেছেন তার পাশেই লাশ পাওয়া গেছে।

নিহতের নানা আলী আহমদ জানান, নাতনির ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমার মেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। নিষ্পাপ নাতনিকে হত্যা করবে ঘাতক টিপু- এ কথা ভাবতেও পারিনি। সামনে কুরবানির ঈদ। নাতনিকে বেড়ানোর জন্য অনুরোধ করে ঘাতক টিপু। পরে আমি নাতনিকে পৌঁছে দিয়েছি।

দাগনভুঞা থানার ওসি মো. হাসান ইমাম জানান, ঘাতক টিপুকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা রোমানা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।