ব্রেকিং:
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে প্রসূতিকে বের করে দিলেন আয়া,অতঃপর . মাদরাসায় বাংলায় সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ সরকার সবার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিত করছে দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই: খাদ্যমন্ত্রী নতুন স্ন্যাপড্রাগন আসছে এ সপ্তাহেই ১৮ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৬২ মাসেও অ্যান্টিবায়োটিক চেনাতে চিহ্ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সরকারের ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ দেওয়ায় ব্যাপক ভাঙচুর, পুলিশ মোতায়েন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, গলায় পোড়া দাগ গরু-ছাগলের মাংসে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত টানা ২৮ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য দেশ, কমলো শনাক্ত বন্যার্তদের দুঃসময়ে সরকার পাশে রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক্তন স্বামীর হামলায় আহত চিকিৎসক স্ত্রী ডাইনিং বন্ধ, হোটেলে উচ্চমূল্য: বিপাকে কুবি শিক্ষার্থীরা দূষণে বছরে ৯০ লাখ মানুষের প্রাণহানি: গবেষণা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৩৭৫২ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ‘শুধু চোর নয়, চোরাই মোবাইল বিক্রেতারাও গ্রেফতার হবে’ কক্সবাজারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ নয়: প্রধানমন্ত্রী চরাঞ্চলের জনগণের ক্ষুধা-দারিদ্র্য হ্রাসে প্রকল্প নেয়া হয়েছে
  • বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

ফেসবুকে সুন্দরীদের ছবি দিয়ে চর্ম-যৌন চিকিৎসার ভয়ংকর ফাঁদ

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২২  

২০২০ সাল থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু পর টেলিমেডিসিন চিকিৎসা সেবা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। আর সেই জনপ্রিয়তার সুযোগকে পুঁজি করে সুন্দরী নারীদের ছবি দিয়ে খ্যাতিমান চিকিৎসকদের নামে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট বা পেজ খুলে বসে প্রতারক চক্র। এরপর  চর্ম ও যৌন চিকিৎসার ফাঁদ পেতে ভুক্তভোগীদের অপচিকিৎসার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি হাতিয়ে নেয় কাড়িকাড়ি টাকা।

পুলিশ বলছে, চক্রটি করোনার সময়কে টার্গেট করে গত দুই বছরে হাজার হাজার রোগীর কাছ থেকে অনলাইনে চিকিৎসার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেগোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার  এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি অভিযোগে রাজশাহীর শাহ মখদুম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের দুইজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. রাশেদ হোসেন প্রান্ত (২৭) ও তার স্ত্রী মোসা. মৌসুমী খাতুন (২৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল , চারটি সিম, ১৩টি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়টাসঅ্যাপ আইডি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আবু সাঈদ (৩১) জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইডাব্লিউ ভিল্লা মেডিকার চিফ লিগ্যাল অফিসার। যাতে অ্যাসথেটিক এবং রিজেনারেটিভ বিষয়ে চিৎকিসা সেবা প্রদান করা হয়। তিনি সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান ফেসবুক আইডিতে ইডাব্লিউ ভিল্লা মেডিকা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের ডা. তাসনিম খানের নাম পদবি এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে চিকিৎসার নামে ভুয়া প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় আবু সাঈদ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে এ চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, চর্ম ও যৌন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত প্রকাশ্যে চিকিৎসকদের কাছে পরামর্শ নিতে সংকোচ বোধ করেন। এ ধরনের রোগীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারক চক্রের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে টেলিমেডিসিন সেবাগ্রহণ করে। গ্রেফতাররা দেশের খ্যতিমান ও জনপ্রিয় চিকিৎসকদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খোলে বিজ্ঞাপন দিত। গ্রেফতাররা কখনো চিকিৎসক কখনো চিকিৎসকের সহকারী পরিচয় দিয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। কথা বলার পর রোগীদের কাছ থেকে টেলিমেডিসিন সেবার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকি বিকাশ/নগদ/রকেটে টাকা হাতিয়ে নিতেন। সরাসরি রোগী দেখালে দুই হাজার টাকা ও টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দেখালে এক হাজার টাকা করে নিতেন তারা। এভাবে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী দেখতেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা মোবাইল, ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রেসক্রিপশন প্রদান ও ওষুধ বিক্রি করে। করোনা মহামারি চলাকালে মানুষ যখন গৃহবন্দি তখন গ্রেফতার রাশেদ হোসেন প্রান্ত তার স্ত্রী মৌসুমী খাতুনকে নিয়ে ফেসবুকে জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. তাসনিম খান, ডা. হুমাইরা হিমি, ডা. মার্জিয়া সুষমা, ডা. আরশিয়া আহি, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. নাফিসা তাসনীম ও ডা. আলভি রহমানদের নাম ও পদবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে যৌন, চর্মসহ একাধিক রোগের বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও একাধিক হোয়াটসআপ নম্বরের মাধ্যমে অসুস্থ মানুষের সেবার নামে ভুয়া প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিকাশ/নগদ/রকেটের মাধ্যমে কৌশলে রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এছাড়া বিভিন্ন নারীর ছবি সংগ্রহ করে এডিটিং করে আপত্তিকর ছবি তৈরির পর মেসেঞ্জার ও একাধিক হোয়াটসআপ নম্বরে পাঠিয়ে কৌশলে রোগীসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, টেলিমেডিসিন সেবা নেয়ার আগে কোনো সন্দেহ মনে হলে আমাদের জানাতে পারেন। অথবা অনলাইনে সেবা নেয়ার চাইতে সরাসরি গিয়ে অথবা পরিচিত চিকিৎসদের পরামর্শ নেয়া ভালো। ভুয়া এসব চিকিৎসকদের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরো বেশি নজরদারি প্রয়োজন।