ব্রেকিং:
ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ নিয়ে আবারও বিতর্ক উত্তরায় প্রাণহানি: প্রধানমন্ত্রীর শোক নোয়াখালীতে জাতীয় শোক দিবস পালিত গাড়ি চালাচ্ছিলেন বরের বাবা, কারোই ফেরা হলো না বাসায় সরানো হলো গার্ডার, ৫ লাশ উদ্ধার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ফেনী নদীতে জেলেদের জালে ধরা ৭ মণ ইলিশ উপকূলীয় ৭ উপজেলার উন্নয়নে মহাপ্রকল্প আগামী বছর থেকে সপ্তাহে ৫ দিন ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী শোক দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে ৫০ হাফেজকে খাবার দিল পুনাক অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের মাছ ধরতে গিয়ে ট্রাক্টরে আটকে গেল কিশোর জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু রায়পুরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, জামায়াত নেতা গ্রেফতার নবীনগরে ভাতিজার ঘুষিতে প্রাণ গেল চাচার সুইস ব্যাংকে তারেকের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার কোটি টাকা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত, প্রাণ গেল কৃষকের খালেদার কাল্পনিক জন্মদিন উদযাপন নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি প্রবাসীর স্ত্রীকে অচেতন করে নগ্ন ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২ শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
  • মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ২ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার বিভীষিকাময় দিন

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২২  

রাজধানীর গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলার ৬ বছর আজ। ২০১৬ সালের রমজান মাসের শেষের দিকে মানুষ যখন ঈদের আনন্দে আনন্দিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল, তখন বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে যায়।

ওই বছরের ১ জুলাই রাতে তারাবিহ নামাজ বাদ দিয়ে পথভ্রষ্ট কতিপয় যুবক রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। সেখানে রাতভর জিম্মি করে রেখে জঙ্গিরা ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করে।

জিম্মিদের মুক্ত করতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পুলিশের দাবি, ওই হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে দেশে জঙ্গি তৎপরতা কমে এসেছে। এখন দেশে কোনো ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই জঙ্গিদের।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে জঙ্গিরা রেস্তোরাঁয় প্রবেশের পরপরই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। প্রথম দফায় জিম্মি নাগরিকদের মুক্ত করতে অভিযান চালাতে গিয়ে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। হামলার ভয়াবহতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, নেভি কমান্ডো ও সেনাবাহিনী যুক্ত হয়।

নারকীয় এই ঘটনার পর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’সহ পরবর্তী সময় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ডসহ অনেক জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়।

রাতভর জঙ্গিরা গুলি করে ও কুপিয়ে রেস্তোরাঁয় আসা গর্ভবতী নারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে। সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে পরদিন সকালে শেষ হয় ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মিদশার।

অভিযানে সরাসরি হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। তারা হলো- রোহান ইমতিয়াজ, সামিউল মোবাশ্বির, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও খায়রুল ইসলাম।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বিচারিক কার্য্ক্রম শুরুর এক বছরের মধ্যেই গত ২৭ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায়ে মামলার ৮ আসামির ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

সিটিটিসির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, প্রায় দেড় বছর আগে পরিকল্পনা এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে নৃশংস এ হামলা সরাসরি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয় আত্মঘাতি পাঁচ জঙ্গিকে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস’র ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেএমবির একটি গ্রুপ বিদেশিদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরবর্তীতে ‘নব্য জেএমবি’ নামে পরিচিতি পাওয়া এ গ্রুপটির কথিত শুরারকমিটি গাইবান্ধার সাঘাটায় বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।