ব্রেকিং:
পোশাক শ্রমিকদের ৮৪ কোটি টাকার সহায়তা বাণিজ্য সফলতায় নারীরা অনেক এগিয়ে আউশ চাষে বিপ্লব শিক্ষার্থীদের বকেয়া উপবৃত্তির টাকা ছাড় রিজেন্টের অনিয়ম খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিয়েছি ‘জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের’ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান মাসব্যাপী জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী পালন এবার প্রকাশ হবে ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ সোলারের সড়ক বাতিতে আলোকিত চরহাজারী কোম্পানীগঞ্জে ২৬০০ পরিবারে মাঝে চাল সহায়তা সাংবাদিকদের সাথে জনতা ব্যাংক ম্যনেজারের অসৌজন্যমূলক আচরণ চাটখিল জনতা ব্যাংক শাখায় ১ লাখ টাকার গরমিল নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতাকে গুলি দক্ষিণ আফ্রিকার সড়কে এক নোয়াখালী প্রবাসীর মৃত্যু দেশে একদিনে আরো ৪৬ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪৮৯ দারুল আকরাম মাদ্রাসার প্রকল্প পূন:অনুমোদনের দাবী প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিধবা মহিলা মেম্বারের আকুতি বেগমগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন সোনাইমুড়ীতে রাস্তার জন্য দূর্ভোগে ৫ হাজার জনসাধারণ
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৫ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৫০

১০ বছর পর কামালকে ফিরে পেল পরিবার

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৯  

মাথায় জটলা চুল, গায়ে মোটা দুইটি কাঁথা জড়ানো আর পরনে ছেড়া লুঙ্গি। মানসিক ভারসাম্যহীন একটি পাগলের সঙ্গে বেশ পরিচিত নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাসিন্দরা। নাম কি, কোথায় থাকে বা কোথা থেকে দুর্গাপুর এসেছে তার কোনো কিছুই জানে না কেউ। অনেকের কাছেই সে মামা নামে পরিচিত।
প্রায় সময় পৌর শহরের কালী বাড়ি মোড়, নাজিরপুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের থেকে ‘এ মামা দশ টাকা দিয়ে জান’ বলে টাকা নিতেও দেখা যায় তাকে। রাত হলেই উপজেলার সদর ইউপির ফারাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেঝেতে থাকেন তিনি। ওই এলাকার মানুষরাও যেনো তার কাছের মানুষ হয়ে গেছেন। সকাল বা রাতে শহরের যে কেউই খাবার খেতে দেয় তাকে।

গত শনিবার (৮ জুন) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার জাহিদ হাসান নামে এক যুবক এই পাগলকে দেখে গ্রামে হারিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে মিল পান। এসময় ছবি তুলে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। পরে সোমবার দুর্গাপুর এসে হাতের কাটা আঙ্গুল দেখে পাগলের নাম কামাল মিয়া বলে শনাক্ত করে তার ভাই ডা. মো. মাহবুব আলম। 

পবিবার সূত্র বলছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাংগুড় নানদিয়া গ্রামের শামসুর ইসলাম ফকিরের ছেলে কামাল মিয়া। ২০০৯ সালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে যায়নি কামাল। চার ভাই, এক বোন আর মাকে নিয়ে তার পরিবার। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান কামাল। ছোট থেকে পড়াশুনা অনেক ভালো থাকলেও বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবার এলোমেলো হয়ে যায়।

আর তখনই হঠাৎ পাড়ার খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মাদক সেবন ও বিভিন্ন মাজার যেতে শুরু করে কামাল। একদিন দুইদিন করে বাড়তে শুরু করে তার বাহিরে থাকার প্রবনতা। সঙ্গে হারিয়ে ফেলে মানসিক ভারসাম্যতা। সেসময় একদিন বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি কামাল। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি করেও তারা কোনা খবর পায়নি পরিবারের সদস্যরা। সবাই যেনো কামালের ফিরে আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিল। 

এর মাঝে গত শনিবার পরিবারের সদস্যরা আবারো জানতে পারে হারিয়ে যাওয়া কামাল এখনো বেঁচে আছে। পাগল হয়ে ঘুরছে দুর্গাপুরের অলিগলিতে। বিষয়টি জেনে আবারো আশায় বুক বাধতে শুরু করে ছেলে হারা মা রাবেয়া খাতুন।

বড় ভাইকে ফিরিয়ে নিতে দুর্গাপুর আসেন ছোট ভাই ডা. মো. মাহববু আলমসহ বন্ধুরা। সোমবার দুপুর থেকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তেরি বাজার ঘাটে দেখা পায় তার। দেখেই ছোট ভাইকে চিনতে পারে কামাল। স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলার বাদল মিয়ার সহযোগিতায় পাগল ভাইকে দুর্গাপুর থানায় নেয় মাহবুব। সেখানে গিয়ে সব তথ্য দেয়ার পর কামালের পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের সদস্যরা।

মাহবুর আলম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বাড়ি থেকে হারিয়ে যায় আমার ভাই। আমরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেও কোনা খবর পাইনি তার। সবশেষে আমরা আমাদের ভাইকে খুঁজে পেয়ে অনেক খুশি। আবারো তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনার জন্য সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।

দুর্গাপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানায়, প্রায় ১০ আগে হারিয়ে যান কামাল। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে সবশেষে দুর্গাপুরে এসে থেকে যান কামাল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখানেই ছিলেন তিনি। পরিবারের দেয়া তথ্যের ভিত্তি গাজীপুরের শ্রীপুর থানা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে কামাল তাদেই পরিবারের সদস্য। আর তাদের দেয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। 

সারাবাংলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর