ব্রেকিং:
দেশে করোনা বিষয়ে সচেতনতা ও টিকাদানে সহায়তা করবে ফেসবুক সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চলতে বিশিষ্ট নাগরিকদের আহ্বান পর্যায়ক্রমে দেশের সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে: প্রধানমন্ত্রী চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা করোনায় আক্রান্ত হলে কতদিন পর টিকা নিতে পারবেন নিত্যপণ্য পরিবহনে সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের হটলাইন চালু লকডাউনে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক খুলতে নির্দেশ জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ আগামীকাল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যাচ্ছে দেশ দেশে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে রমজানে বেঁধে দেওয়া হলো ৬ পণ্যের দাম এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ টিকা কিনতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৩৩০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার লকডাউনে চলাচল করতে ‘মুভমেন্ট পাস’ নেবেন যেভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ল দেশ এটিএম বুথ থেকে তোলা যাবে এক লাখ টাকা লকডাউনে খাদ্য সহায়তা পাবে সোয়া কোটি দরিদ্র পরিবার মিরাজের মেডিকেলে ভর্তির দায়িত্ব নিলেন নোয়াখালীর ডিসি
  • মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০১ রমজান ১৪৪২

হাতিয়ায় লোণা পানিতে ভেসে গেছে তরমুজসহ ৮৮ হেক্টর সবজি ক্ষেত

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২১  

পুর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গত ৬দিন ধরে দফায় দফায় প্লাবিত হচ্ছে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দুটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল। এর ফলে নলচিরা ও হরনী ইউনিয়নের কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা আরও বাড়ছে। এতে করে তরমুজসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে উপজেলার এই দুটি ইউনিয়নের ৮৮ হেক্টর জমির রবিশস্য একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে। জোয়ারের পানি লবণাক্ত হওয়ায় ক্ষতির পরিমান অনেক বেশী হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ রবিশস্য চাষীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমান উল্লেখ করে একটি বিবরণ জেলা অফিসে পাঠিয়েছে। তাতে নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়াগ্রাম, পঞ্চায়েত, লামছড়ি, কলাপাড়া, গচিঙ্গা ও হরণী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামসহ ৬টি গ্রামের ৮৮ হেক্টর জমির রবিশস্য লোণা পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

গত ২৮ মার্চ রবিবার থেকে উপজেলায় পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়ছে। প্রতিদিন চব্বিশ ঘন্টায় দুবার জোয়ার হচ্ছে। প্রতিবার জোয়ারে অন্তত ৮-১০ ঘন্টা নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

নলচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির বাবলু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর হাতিয়ার নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেড়ীবাঁধ তৈরি করা হয়। কিন্তু নলচিরা ও হরণী ইউনিয়নের কিছু এলাকায় দরপত্র আহবান করতে একটু দেরি হওয়ায় ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে এসব এলাকা দিয়ে সহজে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ডুকে যাচ্ছে।

হরণী ইউনিয়নের চতলা ঘাট পানি ব্যবস্থাপনা কমিঠির সভাপতি মো: আরিফ বলেন, জোয়ারে পানিতে প্লাবিত এসব এলাকার বহু চাষী আদৌ কোন ফসল ঘরে তুলতে পারবে কি না, এনিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে তরমুজের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক জায়গায় তরমুজচাষীদের ডুবে যাওয়া খেত থেকে ফসল বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার বহু চাষীকে লোকসান গুনে হা হুতাশ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয় গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই ক্ষেত থেকে অপরিপক্ক তরমুজ তুলে নিচ্ছে। কেউ কেউ পানির নিচ থেকে গাছ তুলে পেলছে। তরমুজ ক্ষেতের মধ্যে দেখা হয় তুফানিয়া গ্রামের সবজি চাষী মো: খোকন (৬০) এর সাথে। আলাপ কালে সে জানায়, এই বছর ৩ একর জমিতে তরমুজ, বাদাম ও মরিচের চাষ করেছে সে। কিন্তু যে সময় ফষল বিক্রি করার কথা ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে জোয়ারের পানি ভেসে গেছে সব। ৩ একর জমির মধ্যে সামান্য কিছু তরমুজ বিক্রি করতে পারলেও বাদাম ও মরিচ বিক্রির সময় এখনো হয়নি। জোয়ারের পানি আর না আসলেও লবণাক্ততা থাকায় পানি চলে যাবার পর সবজি গাছ মরে যাবে বলে জানান সে।

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া ফসলের খেত দেখিয়ে একই ভাবে আরও কয়েকজন চাষী আক্ষেপ করে জানান, এই এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকাই চাষীদের সর্বনাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে আরও চার-পাঁচদিন একই ভাবে জোয়ারের পানির চাপ থাকবে বলেও চাষীরা জানান। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও চাষীদের ধারণা।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: নুরুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা করার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও আগামি তিন-চারদিনের মধ্যে জেয়ারে পানির চাপ কমে আসবে বলেও জানান তিনি।