ব্রেকিং:
একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু জামিন পেলেন শিপ্রা বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে ফেনীতে ৩৬ নারী পেল সেলাই মেশিন ছিলেন যুবদল নেতা এখন হলেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক রামগঞ্জের বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে সেলাই মেশিন বিতরন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে খালে মিলল নারীর লাশ! ফেনীতে ইয়াবা ও দাগনভূঁঞায় ফেনসিডিলসহ আটক-২ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বোনকে হত্যা করলেন ভাই চাকমা: আদিবাসী নয় বহিরাগত আদিবাসী নিয়ে ফের বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা আদিবাসী প্রসংগে কিছু কথা আদিবাসী ইস্যু : দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রসঙ্গ : বিশ্ব আদিবাসী দিবস বাংলাদেশে ওরা আদিবাসী নয় : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের উপজাতীয়রা আদিবাসী নয় কেন? বাংলাদেশ নাগরিকের রাষ্ট্র, কোন আদিবাসীর নয় সন্তু লারমা ও রাজা দেবাশীষ বলেছিলেন বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই বাংলাদেশে আদিবাসী নিয়ে বাড়াবাড়ি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করতেই পাহাড়ীদের আদিবাসী দাবি মুসলমানরাই বাংলাদেশের আদিবাসী
  • রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১২৬

ভেড়া পালনে সংসারে সচ্ছলতা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২০  

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভেড়া পালনে এক নতুন সম্ভাবনাময় খামার গড়ে উঠেছে। অল্প পুঁজি ও শ্রমে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এ ভেড়া পালনের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এখানকার গ্রামীণ নারীরা।

বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ভেড়া পালন করে হচ্ছে স্বাবলম্বী, অভাবের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। সুবর্ণচরের গ্রামগুলোতে এখন বাণিজ্যিকভাবে ভেড়া পালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনা প্রভাবেও সামাজিক দূরুত্ব মেনে চলছে তাদের ভেড়া পালন।

ভেড়া পালন অন্যান্য প্রাণির চেয়ে সহজ ও অধিক লাভজনক। বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় নোয়াখালীর আবহাওয়া ভেড়া পালনের উপযোগী হওয়ায় এবং কম পুঁজিতে ও কম শ্রম লাগায় দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠছে নতুন নতুন ভেড়ার খামার। ১০ থেকে ১৫টি ভেড়ার একটি খামারে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। 

যেকোনো গবাদি পশুর চেয়ে ভেড়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বাচ্চার মৃত্যুর হারও অত্যন্ত কম। ভেড়া উৎপাদন হার গরু, ছাগল ও মহিষের চেয়ে অনেক বেশি। একটি স্ত্রী ভেড়া বছরে ২ বার এবং প্রতিবারে ১ থেকে ২টি করে বাচ্চা জন্ম দেয়। তাই অনেকেই শখ করে চার/পাঁচটি ভেড়া পালনের মধ্য দিয়ে শুরু করলেও দুই বছরের ব্যবধানে এখন ভেড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০টিরও বেশি। 

মাচা পদ্ধতিতে লালন-পালন করার কারণে এদের বাসস্থানের খরচও কম। তাছাড়া ভেড়া অত্যন্ত কষ্ট সহিষ্ণু। ভেড়া এখানকার উষ্ণ ও আদ্র পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সহজেই। 

কোনো ধরনের সরকারি সহযোগীতা না পেলেও সাগরিকা নামের একটি স্থানীয় সমাজ উন্নয়ণ সংস্থা ভেড়া পালনে খামারিদের চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে সহযোগীতা করে আসছে। 

সূবর্ণচরের চর ক্লর্ক গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি ভেড়া বিক্রি করে তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচ, জামাকাপড় কেনাসহ পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। 

মোহাম্মদপুর গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, আসছে কোরবানি ঈদে অনেকেই ভেড়া বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন। স্বামীর আয়ের পাশাপাশি নিজেরাও আয় করে সংসারে সহযোগীতা করেন। 

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাচা পদ্ধতিতে ভেড়া পালন খরচ কম, তাই গ্রামীণ নারীরা পরিবারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ভেড়া পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমাদের তত্বাবধানে প্রায় দুইশত খামার তৈরি হয়েছে। খামারিদের দুইজন ভেটেরিনারি ডাক্তার ও একজন প্যারাভেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, স্বল্প মূল্যে ওষুধ ও আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নোয়াখালী ভেড়া পালনের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময়। ভেড়া পালনে বড় ধরনের কোনো মূলধন বা অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না। নরম, রসালো ও সুস্বাদু ভেড়ার মাংসে আমিষের পরিমাণ গরু ও ছাগলসহ অন্যান্যের চেয়ে বেশি। ভেড়ার মাংসে জিংক, আয়রন এবং ভিটমিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বি ও কোলেস্টেরল কম। ভেড়া পালনে ক্ষুদ্র খামারি গড়ে তুলতে বিভিন্ন ট্রেনিং, চিকিৎসাসেবা ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি। সুবর্ণচরে আমাদের ২৫ জন ক্ষুদ্র ভেড়ার খামারি আছে। ভেড়ার খামার ব্যবস্থাপনা আরো বাড়ানো হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

ভেড়া পালনে সরকারি সহযোগীতা পেলে দেশের প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরো বড় অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন এ অঞ্চলের খামারিরা।  

 
নোয়াখালী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর