ব্রেকিং:
অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আর্জেন্টিনার এমন অসহায় আত্মসমর্পণ কেন? ২১ দিন বন্ধের পর সুপ্রিম কোর্ট খুলছে আজ মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি’ আজ বিশ্ব বাবা দিবস বিয়ের প্রলোভনে মাদ্রাসা শিক্ষিকাকে ধর্ষন হাতকড়াসহ আসামির পলায়ন পাদুকা শিল্পে উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা পদ্মা সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৯ হাজার কোটি টাকা শিশুদের জন্য ৮০ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি বাড়বে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে ১ কোটি কর্মসংস্থান নারী উন্নয়নে বরাদ্দ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ ঢাকার পূর্বাচলে ৬০ হাজার ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দিলেই কর রেয়াত রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ৩৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

রোববার   ১৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৩ ১৪২৬   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

সর্বশেষ:
শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হচ্ছে আজ অফিস-আদালতে ঈদের আমেজ হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু আলজেরিয়ায় কোরআন মুখস্থ করলে জেল থেকে মুক্তি হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-অস্ট্রেলিয়া পাসওয়ার্ড: ‘বিশ্বমানের’ সিনেমা কি এমন হয়?
১৩

বৃদ্ধার কান্না: বাবা-মার সঙ্গে আচরণের বদলা পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

এখন শেষ বয়সে আমি সন্তানদের কাছ থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই পুরোপুরি দায়ী। কারণ অতীতে আমি আমার বাবা-মার সঙ্গে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা হাড়ে হাড়ে পাচ্ছি।

জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করে ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে এসব কথাই বলছিলেন ভারতের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা। 

ওই বৃদ্ধা বললেন, কথাগুলো কোনোদিন কারো কাছে বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা  আর সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।

বৃদ্ধা বলেন, সবই আমার কপাল। আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন, তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম। তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ্বালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে।

বৃদ্ধার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি অতীতের কথা বলতে শুরু করেন। বলেন, ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কৃষক পরিবার হওয়ায় সংসারে অর্থকষ্ট লেগেই থাকত। ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।

প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন। বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।

নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আমি বিতাড়িত।

অভিযোগের সুরে বৃদ্ধা বলেন, সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যেদিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিও না। কিন্তু তারা শুনল না।

চোখ মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বললেন, আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এখন বুঝতে পারছি, এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।

নোয়াখালী সমাচার
নোয়াখালী সমাচার