ব্রেকিং:
জেনারেল হাসপাতালে ১০টি বেড বসিয়ে ১১ কোটি টাকার বিল ফেনীতে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার তৃতীয় বউয়ের হাতে লাঞ্চিত ডাঃ টুপি মিজান লক্ষ্মীপুরে দুধ-ডিম-মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার দাবা প্রতিযোগিতা দেশে করোনা বিষয়ে সচেতনতা ও টিকাদানে সহায়তা করবে ফেসবুক সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চলতে বিশিষ্ট নাগরিকদের আহ্বান পর্যায়ক্রমে দেশের সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে: প্রধানমন্ত্রী চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা করোনায় আক্রান্ত হলে কতদিন পর টিকা নিতে পারবেন নিত্যপণ্য পরিবহনে সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের হটলাইন চালু লকডাউনে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক খুলতে নির্দেশ জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ আগামীকাল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যাচ্ছে দেশ দেশে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে রমজানে বেঁধে দেওয়া হলো ৬ পণ্যের দাম এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ টিকা কিনতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৩৩০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার
  • মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০১ রমজান ১৪৪২

বাবুনগরী-মামুনুল হকের ষড়যন্ত্র ফাঁস :ক্ষমতার লোভে আল্লামা শফি খুন

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২১  

বর্তমান রাজনীতিতে এক্সফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে গত এক বছর আগেও এই সংগঠনটি অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলো। কিন্তু ২০২১ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগঠনটি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু তিনি মারা যাবার পর তার পরিবর্তে অনৈতিকভাবে সরকার বিরোধী পন্থী বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট জুনায়েদ বাবুনগরি ও মামুনুল হককে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতায় আনা হয়। আর এরপরই ভোল পাল্টায় হেফাজতে ইসলাম।

বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট বাবুনগরি ও মামুনুল হক ক্ষমতা পেতে ষড়যন্ত্র শুরু করেন ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছিল প্রায় ২০ হাজার ছাত্র। তারা বিভিন্ন শিক্ষকদের অনুসারী হিসেবে নানা ভাগে বিভক্ত। বিষয়টি ভালোভাবে জানতেন বাবুনগরী। বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে তিনি হাটহাজারি মাদ্রাসায় অবস্থিত সরকার বিরোধী বিভিন্ন ইসলামিক নেতার সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করেন। অতঃপর একটি শক্তিশালী ঘাটি তৈরি করে ১১ সেপ্টেম্বর আল্লামা শফী বিরোধী নেতাদের নিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী তার ফটিকছড়ির বাসায় একটি মিটিংয়ের ডাক দেন। উক্ত মিটিংয়ে মামুনুল হক ও নাসির উদ্দিন মুনিরের মতো নেতারা অবস্থিত ছিলেন।

উক্ত মিটিংয়ে মামুনুল হক ঘোষণা করেন যে, শফী হুজুরের ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা না হলে শফী হুজুরকে চরম মূল্য দিতে হবে। যার অংশ হিসেবে ১৬ তারিখ হাটহাজারী মাদ্রাসায় আন্দোলন শুরু হয়।

মামুনুল হকের এমন ঘোষণাই আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার প্রথম চক্রান্ত বলে মনে করেন অনেকে।

মনে রাখা প্রয়োজন, হাটহাজারি মাদ্রাসায় ৮ হাজার ছাত্রের থাকা খাওয়ার খরচ আল্লামা শফী সাহেবের কমিটির লোকজন বহন করতো। ফলে এমন মাদ্রাসায় আন্দোলন কখনোই সম্ভব ছিলো না। যা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আল্লামা শফীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন আল্লামা শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের পরিকল্পনা এবং আরেক যুগ্ম-মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরের নেতৃত্বে আল্লামা আহমদ শফীকে ‘হত্যা’করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে আহমদ শফীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে। যে মানুষটি অক্সিজেন ছাড়া চলতেই পারেন না, সেটা আবার হাই ফ্লো অক্সিজেন। সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অক্সিজেন ছাড়া আটকে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে বাদী নিজস্ব ব্যবস্থায় হুজুরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানান, হুজুর ততক্ষণে কোমায় চলে গেছেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি অবশ্যই রহস্যজনক।

এছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর দুই দিন আগে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে একদল উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রকে মাঠে নামানো হয়। তারা আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে উগ্র ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে স্লোগান ও গালিগালাজ করতে থাকে। আহমদ শফীর কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে আসামি নাছির উদ্দিন মুনির ধমকের সুরে বলেন, ‘তুই হচ্ছিস বুড়ো শয়তান, তুই মরবি না, তুই সরকারের দালাল।’ ৪০-৫০ জন শফীর কক্ষে গিয়ে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করে ওই পদে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীকে বসানোর দাবি করতে থাকেন।

একপর্যায়ে শাহ আহমেদ শফী রাজি না হওয়ায় মামুনুল হকের মোবাইলে নির্দেশমতে নাছির উদ্দিন মুনির হেফাজত আমিরের দিকে তেড়ে যান, শফী সাহেব বসা অবস্থায় চেয়ারে লাথি মারেন। নাকের অক্সিজেন টান দিয়ে খুলে ফেললে শফী হুজুর অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়, আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শফী হুজুর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। যদিও আল্লামা শফী সাহেবের মুখ থেকে একটি কথাও শোনার সুযোগ পায়নি সাধারণ জনগণ।

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে শফীকে জিম্মি করে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার ও তার পদত্যাগের ঘোষণা মাইকে বলার জন্য চাপ দেন আসামিরা। তিনি অনীহা প্রকাশ করলে তার কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিদ্যুতের অভাবে অক্সিজেন লাগাতে না পারায় শফী কোমায় চলে যান। তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা থেকে বের করে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। উক্ত তথ্য উপাত্তকে বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে উপনীত হওয়া যায় যে, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।