ব্রেকিং:
দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার শেখ হাসিনা এখন আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় নোয়াখালীতে অস্ত্রসহ শীর্ষ জলদস্যু গ্রেফতার সপ্তাহের ব্যবধানে কমলো স্বর্ণের দাম ইবতেদায়ি শিক্ষকদের জন্য আসছে এমপিওভুক্তির সুখবর সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি: সচিব সাকিব-মাশরাফীদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এখন শুধু শচীন-পন্টিং-সাঙ্গাকারাকে টপকানোর অপেক্ষা ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস শেষ ধাপে ২০ উপজেলায় ভোট চলছে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আজ বনভোজন দিবস ব্যাংকে টাকা আছে, লুটে খাওয়ার মতো নেই: প্রধানমন্ত্রী বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল হেসে খেলে প্রত্যাশিত জয় টাইগারদের নোয়াখালী সদরে ইভিএমের ক্যাম্পেইন-মাইকিং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাট উন্মোচন আজ উইন্ডিজের বিপক্ষে জয় চান মাশরাফী সমালোচনার মধ্যেও ভদ্রতা থাকতে হয়: তথ্যমন্ত্রী যে কৌশলে আটক হলেন ওসি মোয়াজ্জেম

বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৬ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সর্বশেষ:
তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তে হত্যা বন্ধে সহযোগিতার আশ্বাস ভারতের অস্বাভাবিক ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুর জন্ম দিলেন কোয়েল মল্লিক! সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশের উন্নয়নে কি কি থাকছে প্রস্তাবিত বাজেটে কারাবন্দিদের নাস্তায় যুক্ত হলো উন্নতমানের খাবার যোগ্য সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিন: প্রধানমন্ত্রী
১৭

পুরান ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০১৯  

ঈদ মানে শুধু ঈদের দিনটিতে নয় পরের কয়েকদিনও হাসি, রাশি আনন্দে কাটে। এবারও তাই। বুধবার ছিল ঈদুল ফিতর। দিনটি গত হয়েছে। তাতে কি? রেশ কাটেনি এখনও। আমন্ত্রণ-নিমন্ত্রণ পর্ব চলছে। একইসঙ্গে চলছে ঘুরে বেড়ানো। ফাঁকা ঢাকায় যে যার মতো করে ঘুরছে। বেড়াচ্ছে। খোলা জায়গা, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঈদ উদযাপনের সঙ্গী হয়েছে। দেখে মনেই হয় না এ শহরে কোনো দুঃখ আছে। এ যেন আনন্দ নগরী। এ উৎসব যেন ফুরোবার নয়।
উৎসবের রঙটা মূলত ছড়িয়ে দিচ্ছে শিশু-কিশোররা। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক নবাববাড়ি আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা এবং হাজারীবাগের কোম্পানি ঘাট সংলগ্ন কামরাঙ্গীরচর রসুলপুরে বেসরকারিভাবে নির্মিত ম্যাটাডোর এমিউজ শিশু পার্কে সকাল থেকেই নারী- শিশুসহ দর্শনার্থীদের উপচে পরা ভিড় দেখা গেছে। 

লালবাগ কেল্লার কাস্টডিয়ান হালিমা আফরোজ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ঈদের দিন সকাল থেকে কোনো প্রবেশ ফি ছাড়া শুধুমাত্র পথশিশুদের জন্য কেল্লা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দর্শনার্থী কম ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভাল থাকায় দর্শনার্থীদের চাপ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে শুক্রবার ও শনিবার কেল্লা খোলা থাকলেও রোববার সাপ্তাহিক ছুটির বন্ধ থাকবে। 


 
তিনি আরো জানান, ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। লালবাগ থানার ওসি সুভাষ সাহাসহ র‍্যাব-১০ এর শায়েস্তা খা ক্যাম্পের সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। এছাড়া কেল্লার পুরো এলাকা সিসি ক্যামারায় নিয়ন্ত্রণ করে সর্বক্ষণ মনিটরিং করা হচ্ছে। 

তবে এতো কিছুর পরেও কেল্লার দর্শনার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা আশরাফ উদ্দীন স্ত্রী, ছেলে- মেয়েদের নিয়ে প্রথমবার এসেছেন। তিনি জানান, টিকেট কেনার সময় হতে ভেতরে ঢোকার আগ পর্যন্ত সময়ে বৃষ্টি হলে কোনো আশ্রয় নেয়ার মতো জায়গা নেই। শত শত দর্শনার্থী আসছে অথচ খোলা আকাশের নীচে দাড়িয়ে বৃষ্টি নামলে ভিজতে হচ্ছে। ভেতরেও কোথাও কোনো ছাউনি ওয়ালা জায়গা নেই যে দর্শনার্থীরা আশ্রয় নেবে। 

কেল্লার মোড়ের বাসিন্দা কেয়াম হোসেন জানান, বছরের পর বছর লাখ লাখ দর্শনার্থী এলেও ভেতরের ফোয়ারা বা ঝর্ণাগুলো এখনো অকেজো। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো সংস্কার না করায় দর্শনার্থীরা আকর্ষণ হারাচ্ছেন কেল্লার প্রতি। এছাড়াও এলাকাবাসীর সচেনতার অভাবে কেল্লার দেয়ালে নানা পোষ্টার-ব্যানার এর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। 


 
পুরান ঢাকার কায়েতটুলি থেকে আসা খোকনের অভিযোগ, কেল্লার ভেতরে মিউজিয়ামটি মোগল শাসনের সাক্ষ্য তুলে ধরছে। কিন্তু ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় দ্বিতীয় তলায় যেতে দেয়া হয় না। এটা সংষ্কার করা না হলে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

রুহিতপুর থেকে ভাই-বোনদের নিয়ে আসা সুমন হোসেন জানান, ঢাকার নিকটে থেকেও ঐতিহাসিক এই স্থানটি দেখা হয়নি। তাই ছোট ভাই বোনদের নিয়ে এসেছি। ভাল লাগলো। তবে তিনি কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা প্রসাদটি অবৈধ দখল মুক্ত করার দাবি জানান।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরের পেছনে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের আহসান মঞ্জিল বা নবাববাড়িতেও সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বুধবার ঈদের দিনে বৃষ্টির কারণে বাড়ির সামনের লন ভেজা থাকায় দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

ঐতিহাসিক এ স্থান দুটি ছাড়া হাজারীবাগের কোম্পানি ঘাট সংলগ্ন কামরাঙ্গীরচর রসুলপুরে বেসরকারিভাবে নির্মিত ম্যাটাডোর এমিউজমেন্ট শিশু পার্কটি পুরান ঢাকার একমাত্র বিনোদন পার্ক। বেড়িবাঁধের পাশে নির্মিত এই পার্কটি পহেলা মার্চ হতে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রবেশ মূল্য মাত্র একশত টাকা। ভেতরে রয়েছে নয়টি রাইড। রাইডগুলোর জন্য পৃথক পৃথক প্রবেশ মূল্য। প্রতিদিন সকাল দশটা হতে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।


 
ঈদের দিন হতে পরদিন বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো। পার্কটির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল হাসান জানান, ঢাকা শহরের পশ্চিম অঞ্চলে শিশু-কিশোরদের একমাত্র এই বিনোদনের পার্কটি এরইমধ্যে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে। ঈদের দিন দূর্যোগের কারণে দর্শনার্থীদের ভিড় কম ছিল। তবে আজ আবহাওয়া ভাল থাকায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় রয়েছে। 

তিনি বলেন, রাইডগুলো সবই নতুন হওয়ায় শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা। 

পার্কটিতে ঘুরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জল জানান, প্রবেশ ফি একশত টাকা অনেক বেশি। এটা পঞ্চাশ টাকা হলে ভাল হতো। তবে রাইডারের মূল্য নিয়ে আপত্তি নেই। 

মনেশ্বর রোডের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, এলাকায় একটি পার্ক হয়েছে শোনেছি। তাই আজ দেখতে এলাম। পার্কটি সুন্দর হলেও রাইডগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির দূরত্ব কম, ভেতরে হাটা-হাটির জায়গা নেই। আরো বেশি জায়গা নিয়ে করলে ভাল হতো। 

নোয়াখালী সমাচার
নোয়াখালী সমাচার