ব্রেকিং:
ফেনী সদরের ১১ ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সম্মেলন এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন আগামী সপ্তাহে: শিক্ষামন্ত্রী খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে ডিসিকে আইনি নোটিশ করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩২ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৩৬ একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আট ধর্ষক রিফাত হত্যায় স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অভিযুক্ত সবাই খালাস বিদেশী প্রযুক্তির টেকসই প্রকল্পে বন্ধ হবে নদী ভাঙ্গন চালের দাম নির্ধারণ করে দিলো সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর্মসংস্থানে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম সারাদেশে কলেজগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে দেশ সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামাতে সম্মত বাংলাদেশ-ভারত বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু প্রকল্পের নথি বাংলায় তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৬ দফা প্রস্তাব স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালু লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন লক্ষ্মীপুরে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত
  • বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৭

  • || ১২ সফর ১৪৪২

১৪৮

নদীর তলদেশে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণকাজ

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২০  

চট্টগ্রামে দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলেছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্বপ্নের টানেল নির্মাণের কাজ। মহানগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের যেখানে গিয়ে কর্ণফুলী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে, ঠিক সেই মোহনায় নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্বপ্রথম সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। নদীর ১৫০ ফুট গভীরে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলে থাকছে ১০ দশমিক ৮ ব্যাসার্ধের দুটি টিউব। একটি দিয়ে যানবাহন নগরীর দিক থেকে আনোয়ারা প্রান্তে যাবে। অন্যটি দিয়ে আনোয়ারা থেকে ফিরবে। প্রতিটি টিউব হচ্ছে দুই লেনের। গত সাড়ে চার মাস ধরে করোনাভাইরাসজনিত কারণে সবকিছু থমকে গেলেও বন্ধ হয়নি টানেলের কাজ। সুসংবাদ হচ্ছে, একটি টিউবের বোরিং কাজ রিং প্রতিস্থাপনসহ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। টানেলের সঙ্গে থাকছে উভয় প্রান্তে ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ৫৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই টানেল চালু হলে কর্নফুলীর দুই তীরকে যুক্ত করবে সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায়। এই পথে দূরত্ব কমে আসবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের। চীনের সাংহাই নগরীর আদলে চট্টগ্রামে গড়ে তোলা হবে ‘ওয়ান সিটি-টু টাউন’।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যৌথভাবে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় চীনের সঙ্গে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদে ঋণ দিচ্ছে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রæয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন এই টানেলটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় এখন চলছে নির্মাণকাজের মহাযজ্ঞ। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এই টানেল নির্মাণ করছে। তাদের শতাধিক কনসালট্যান্ট এবং কর্মীর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কর্মীরা রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রকল্প কাজে। বিশাল আকৃতির বোরিং মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ খননের কাজ চালানো হচ্ছে। বোরিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে রিং প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি গেটের সামনে দিয়ে শুরু হওয়া টানেল ওপারে আনোয়ারা উপজেলায় গিয়ে উঠছে সিইউএফএল এবং কাফকো সার কারখানা দুটির মধ্যবর্তী স্থানে। টানেলের সঙ্গে ৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড নগরীর সঙ্গে আনোয়ারাকে যুক্ত করলে নগর নদীর দক্ষিণ তীরেও সম্প্রসারিত হবে। সেখানে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা। কাফকোর পর গহিরায় এখন চায়না ইকোনমিক জোন তৈরির কাজও চলছে। টানেলটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দর কাঠামো দক্ষিণ তীরেও সম্প্রসারিত হবে।

টানেলের দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য হবে ২ হাজার ৪৫০ মিটার। প্রতি টিউবে থাকছে দুটি করে লেন। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে দুটি নিজস্ব সাবস্টেশন ও সঞ্চালন লাইন। জরুরি প্রয়োজনে এক টিউব থেকে অন্য টিউবে যাওয়ার জন্য রাখা হচ্ছে সংযোগ ব্যবস্থা। টানেলের অ্যাপ্রোচ রোড যুক্ত হবে নগরীর আউটার রিং রোডের স্েঙ্গ। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বাধুনিক টানেল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, টানেলের সার্বিক কাজ ৫৭ ভাগ শেষ হয়েছে। করোনার সময় চীনা কিছু কনসালট্যান্ট স্বদেশে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন, তাই বলে নির্মাণকাজ থেমে থাকেনি। করোনা পরিস্থিতি না হলে কাজের অগ্রগতি আরও কিছু বেশি হতো। আনন্দের সংবাদ হচ্ছে, একটি টিউবের বোরিং এবং রিং প্রতিস্থাপন কাজ সুচারুভাবে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প কাজ শেষ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর