ব্রেকিং:
দেশে করোনার টিকা কবে আসবে, জানালেন স্বাস্থ্য সচিব কোনোভাবেই বেপরোয়া গাড়ি চালানো যাবে না: সেতুমন্ত্রী ছিন্নমূল শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অসহায়দের মাঝে আওয়ামীলীগ নেতার কম্বল বিতরণ ব্যাংকার্স ফোরাম লক্ষ্মীপুরের অভিষেক অনুষ্ঠিত ফেনীতে ১০০ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ তৃণমূলের সাথে যাদের সুসম্পর্ক তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে পরশুরামকে আলোকিত করে দিচ্ছেন পৌর মেয়র সাজেল চৌধুরী সোনাগাজী মডেল থানার উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন এসপি ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল রায়পুরে হাসপাতালে অভিযান, ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা ফেনীতে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি চলছে ফেনীতে আ’লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন শুরু হচ্ছে আজ লক্ষ্মীপুরে এসিড সন্ত্রাসের শিকার ৩ নারী সুবর্ণচরে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের মানববন্ধন নিঝুমদ্বীপে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীনরা ৫ টাকায় সারাদিন ইন্টারনেট ব্যবহারের পদ্ধতি তৈরি করলেন দুই বাংলাদে উন্নত প্রযুক্তির বডি স্ক্যানার বসছে শাহজালাল বিমানবন্দরে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপিত হবে ৬৯৩ কোটি টাকায়
  • মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭

  • || ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

১৬৮

দুলাভাইয়ের কারসাজিতে যুবতী শ্যালিকা হলেন ৫০০ কোটি টাকার মালিক

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২০  

মাত্র ৭ বছর আগেও দিনমজুর বাবার সংসারে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না। অর্থের অভাবে লেখাপড়াও হয়নি। সেই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান জেসমিন প্রধান এখন বিত্তশালী। কেননা এই ৭ বছরেই তার আঙুল ফুলে কলাগাছ। বনে গেছেন ৫০০ কোটি টাকার মালিক। শুধু তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবেই ১৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অথচ ২৩ বছর বয়সী যুবতী জেসমিনের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের মানবপাচারের টাকায় শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এখন সম্পদশালী। কুয়েতে মানবপাচারের হোতা পাপুল অর্থ ও মানবপাচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থ আড়াল করতে শ্যালিকার অ্যাকাউন্টে রাখেন। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ পথে অর্জিত বিপুল অর্থ বৈধ হিসাবে দেখাতে শ্যালিকা জেসমিনের মালিকানায় ‘লিলাবালি’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন এমপি পাপুল। এরপর ধীরে ধীরে দুলাভাইয়ের কারসাজিতে যুবতী শ্যালিকা হলেন ৫০০ কোটি টাকার মালিক।

জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচটি ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাচার করা হয় ১৪৮ কোটি টাকা। এই পরিমাণ টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী ও সন্তান এবং শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

 

শ্যালিকা ও স্ত্রীর সঙ্গে এমপি পাপুল - ফাইল ছবি

শ্যালিকা ও স্ত্রীর সঙ্গে এমপি পাপুল - ফাইল ছবি

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান জেসমিন প্রধান। বড় বোন সেলিনা ইসলামের বিয়ে হয় কুয়েতপ্রবাসী কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে। পাপুল মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত টাকা শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের অ্যাকাউন্টে এবং নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলেন। পাঁচটি অ্যাকাউন্টে ১৪৮ কোটি টাকার এফডিআরসহ জেসমিন এখন প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মালিক।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে জেসমিনের প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। একটি ব্যাংকেই তার ৩৪টি এফডিআর হিসাব রয়েছে। এফডিআর হিসাবের দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকার কোনো উৎস জেসমিন দেখাতে পারেননি। সে কারণে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তাকে আরো মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত জেসমিন প্রধানের নিজ নামে ২০টি এফডিআরে এক কোটি টাকা, বোন সেলিনা ইসলামের নামে ২৯৫টি এফডিআরে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বোনজামাই শহিদ ইসলাম পাপুলের নামে ২৩টি এফডিআরে দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা পায় দুদক। এ ছাড়া পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলামের নামে ৪১টি এফডিআরে দুই কোটি ২৯ লাখ টাকাসহ মোট ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জেসমিন প্রধানের একটি ব্যাংকের হিসাবে লগ্নি করে ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার ওভার ড্রাফট সুবিধা গ্রহণের প্রমাণ মেলে। সব মিলে বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে পাচার হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে দুদক। আজ বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামি হয়েছেন- পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কাজী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধান।

তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করেছেন দুদকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। পুরো অনুসন্ধান কার্যক্রম তদারক করেছেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন অভিযুক্তদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটিও অনুসন্ধান করছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

সারাবাংলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর