ব্রেকিং:
প্রতিটি সূচক অর্জনেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে: সেতুমন্ত্রী চীনে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী কুকুর খাওয়ার উৎসব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দেশব্যাপী তালগাছ রোপণ অভিযান শুরু করেছে আওয়ামী লীগ আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিকে শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুপারিশ ঢাকা বাইপাস সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু পার্বত্য জেলার ১৪২ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুপারিশ এলডিসি থেকে টেকসই উত্তরণে নতুন প্ল্যাটফর্ম আওয়ামী লীগ কেবল রাজনৈতিক দল নয়, জাতির নিউক্লিয়াসও: জয় আওয়ামী লীগ হীরার টুকরো, ভাঙলে বেশি জ্বলজ্বল করে : প্রধানমন্ত্রী খালের পানিতে নেমে ডুবে গেল দুই শিশু ৩০ টাকায় মেলে ভাত মাছ সবজি ডিম গাছে গাছে পাখির নিরাপদ আশ্রয় করে দিচ্ছেন যুবকরা দুই আঙুলে নাক টিপে পথ চলতে হয় এখানে চাচার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কলেজছাত্রী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ১৬ লাখ টাকা লুটের নেপথ্যে ‘ছিনতাই’ প্রতিবন্ধীদের চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ লুঙ্গি ও গামছা পরে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করল এএসআই টিকা উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • বৃহস্পতিবার   ২৪ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৮

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

দরিদ্রতা আল্লাহর পরীক্ষা

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২১  

সহায়-সম্পত্তি ও প্রাচুর্যতা মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ। আর দারিদ্রতা দেয়া হয় পরীক্ষার নিদর্শন হিসেবে। ধনাঢ্যতা এবং দরিদ্রতা পৃথিবীর সমাজ জীবনে আবহমানকালের বাস্তবতা। মহান আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদে প্রাচুর্যপূর্ণ হয়ে কেউ আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করে থাকে। আবার কেউ অহংকারী হয়ে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এটা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। ধনাঢ্য যেমন বড় পরীক্ষা তেমনি দারিদ্র্যও এক বিরাট পরীক্ষা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)। 

দারিদ্র্য যেহেতু একটি পরীক্ষা। অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। জেনে রাখা উচিত যে, সচ্ছলতা শুধু প্রাচুর্যতায় নয়; দারিদ্র্যের মধ্যেও তা লুকিয়ে থাকে, যদি ধৈর্যের সঙ্গে তাকে অনুভব করা যায়। যারা দারিদ্র্যের মধ্যেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এবং ধৈর্যধারণ করে তাদের উদ্দেশে আল্লাহ বলেন, ‘যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় এবং যুদ্ধের সময়ে, তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা বাকারা : ১৭৭)

দারিদ্র্য কখনও হতাশার কারণ নয়। আজ দেখা যায় দারিদ্র্যে নিপতিত ব্যক্তিদের চেহারা হতাশার জালে আবৃত। আমরা যখন একটু অসচ্ছল হয়ে পড়ি তখন শয়তান আমাদের অন্তরে নানা প্রকার হতাশার কারণ তুলে ধরে যেন আমরা আল্লাহর ওপর থেকে নিরাশ হয়ে পড়ি। অনেক সময় বলে ফেলি, যদি এটা আমার হতো বা আমি যদি তাদের মতো সম্পদশালী হতাম! আল্লাহ কেন আমাকে দারিদ্র্যে পতিত করলেন (নাউযুবিল্লাহ)? ইত্যাদি শুধু অহেতুক প্রশ্ন আর চাওয়া-পাওয়ার মাধ্যমে নিজেদেরকে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিই।

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নাকি তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনও তোমাদের নিকট তাদের মতো কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তার সাথী মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে?’ জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।’ (সুরা বাকারাহ : ২১৪)

যখন কারও ওপর দারিদ্র্য পরীক্ষা নেমে আসে, তখন শয়তান দারিদ্র্যের বিভিন্ন প্রকার ভয় ও হতাশা চোখের সামনে তুলে ধরবে এবং নিরাশ করতে চাইবে আল্লাহর রহমত থেকে। এজন্য আল্লাহ উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্রতার ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা : ২৬৮)। মনে রাখা, দারিদ্র্য একমাত্র আল্লাহ দিয়ে থাকেন এবং তিনিই প্রাচুর্যতা নিয়ে আসেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে সুখ।’ (সুরা ইনশিরা : ৬)

আল্লাহ তায়ালা বলেন, দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে রিজিক দেই এবং তাদেরকেও। (সুরা আনআম : ১৫১)। সুতরাং, রিজিকের দায়িত্ব যেহেতু আমাদের হাতে নেই তা হলে আমাদের ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে বাস করা দরিদ্র জন আজ অবহেলিত। দরিদ্র হলেই যেন ধনীদের চোখের কাঁটা। না আছে তাদের গুরুত্ব, না আছে মর্যাদা। এটা এমন এক অভিশাপে পরিণত হয়েছে যে, দরিদ্র জন মাথা উঁচু করে একটু কথা বলবে সে সাহস খানিও পায় না।

ধনীরা দরিদ্রদের পরিণত করে রেখেছে পূজনীয় পাত্রে। যখন দরিদ্রের কখনো কোনো হক কিংবা অধিকার লঙ্ঘিত হয় তখন তারা একটু অধিকার দাবিতে কথা বললেই যতসব বিপদ তাদের ওপর অর্পিত হওয়া শুরু করে যেন সমাজ কিংবা দেশের আবর্জনা ছাড়া তারা কিছুই নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, যখন রমজানে জাকাত দানের সময় উপস্থিত হয় তখন দরিদ্রদের হাসির খোরাকে পরিণত করে থাকে। দরিদ্রদের নিকট জাকাত দানের নামে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে শাড়ি আর লুঙ্গি বিতরণ করা ঠাট্টা-বিদ্রপাত্মক আচরণেও লিপ্ত থাকে।

দান, সদকা, জাকাত ইত্যাদি সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখে। ধনীদের উচিত তাদের সঞ্চিত অর্থ সম্পদের পূর্ণ জাকাত বের করে দরিদ্রের মধ্যে সঠিক উপায়ে বণ্টন করা এবং নিয়মিত দান-সদকা করা। দরিদ্রের সাহায্যে এগিয়ে আশা, তাদের দেখাশোনা করা, তাদের অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রয়োজনে সাড়া দেয়া এবং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আমাদের একান্ত অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি সদকা প্রকাশ কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপন কর এবং ফকিরদেরকে দাও, তা হলে তাও তোমাদের জন্য উত্তম এবং তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দেবেন। আর তোমরা যে আমল কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’ (সুরা বাকারা: ২৭১)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (আদাবুল মুফরাদ : ১১২)

অতএব প্রতিবেশী যারা অভাবগ্রস্ত থাকবে আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় বিভিন্ন উপায়ে তাদের সহায়তা করা। আর কখনও দারিদ্র্যের পরীক্ষা নেমে এলে করণীয় হচ্ছে, আল্লাহর স্মরণ বাড়িয়ে দেয়া, তওবা-ইস্তেগফার অধিক পরিমাণে করা, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, ধৈর্যধারণ করা, সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, দারিদ্র্যের মাধ্যমে আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছেন এই বিশ্বাস রাখা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, দারিদ্র্য কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা। পাপে ডুবন্ত থাকলেও মারাত্মক বিপদে অবস্থান করলেও দারিদ্র্যের শিকার হলেও কিংবা যে অবস্থায় থাকুন না হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপদেশ দিয়ে বলেন, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। (সুরা যুমার : ৫৩)