ব্রেকিং:
করোনার মধ্যেই বাণিজ্য মেলা ফুলগাজীতে মেছো বাঘ আটক ফেনীতে স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিদর্শনে সেব্রিনা ফ্লোরা লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতি নির্বাচন ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ”ভাইজান” নোয়াখালীতে সাংবাদিক বোরহান হত্যার তদন্তে পিবিআই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ১৩ বছর পর রায়, আসামির যাবজ্জীবন করোনায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪২৮ শেখ হাসিনার মতো নেতা সারাবিশ্বে পাওয়া যাবে না: ডা. দিপু মনি কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সাধারণ মানুষও চিকিৎসা পাবেন: আইজিপি তথ্যের স্বচ্ছতা-নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্লকচেইন ব্যবহার করছে সরকার টিকা নিলেন শেখ রেহানা পুলিশ সদস্যদের লাল গোলাপ দিল সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা টিকায় অ্যান্টিবডির ভালো ফল মিলছে ২৫০৪ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা রয়েছে সরকারের কাছে স্বপ্ন জাগিয়েছে মেগাপ্রকল্প সাশ্রয়ী মূল্যে সুপেয় পানি সরবরাহের সুপারিশ বন্ডের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন আরও সহজ হলো প্রণোদনা প্যাকেজ টিকা কিনতে ৯৪ কোটি ডলার সহায়তা দেবে এডিবি
  • বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭

  • || ১২ রজব ১৪৪২

ওই দেখা যায় মেট্রোরেল

নোয়াখালী সমাচার

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি ঘুরতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দেশের প্রথম মেট্রোরেলের প্রারম্ভিক স্টেশন এখানেই। আর সেখানকার অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।

২৪টি ট্রেন রাখা হবে এখানেই। ধোয়া মোছার ব্যবস্থাও থাকবে সেখানে। থাকবে টুকটাক মেরামতের জায়গাও।

এর জন্য নির্মাণ হবে মোট ৫২টি অবকাঠামো। যার মধ্যে নয়টির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তবে বাকি যেগুলা আছে, সেগুলো মাঝারি অথবা ছোটখাট কাজ। প্রধান যে নয়টি কাজ সময় নিয়ে করতে হয়েছে, তার সবই শেষ।

নথিপত্র বলছে, এখানকার পূর্ত কাজের ৮০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে।

দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও, ফার্মগেট দিয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্জন হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে ট্রেন।

সব মিলিয়ে লাইনের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার। কাজ চলছে চার বছর ধরে। প্রাথমিক যে লক্ষ্য ছিল, তাতে এখন পুরোটাই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে বাড়াতে হয় সময়।

এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রকল্পটি চালু করতে চায় সরকার।

এই ২০ কিলোমিটারের উত্তরা থেকে মিরপুরের দিকে সাত কিলোমিটারের বেশি লাইন বসে গেছে। আরও চার কিলোমিটারের বেশি পথে লাইন বসানোর কাজ চলছে।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় পুরোটা পথেই লাইন বসানোর ভায়াডাক্ত বসে গেছে। এ কারণেই দিয়াবাড়ি ঘুরতে যাওয়া মানুষরা প্রায়ই বলে থাকেন, ‘ওই দেখা যায় মেট্রোরেল’।

লাইনের উপরে বসানো হয়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। সেসব স্টেশনে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, সিগন্যালিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং স্টেশন কন্ট্রোলার কক্ষ নির্মাণ কাজ চলমান।

মেট্রোরেল নির্মাণে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তা বিবেচনায় পাঁচটি লং স্প্যান ব্যালান্স ক্যান্টিলিভারের মধ্যে তিনটির কাজও শেষ হয়ে গেছে।

কোন ধরনের ট্রেন চলবে সেটিও এখন দেখা যাচ্ছে। মূল ট্রেনের আদলে তৈরি ‘মক’ ট্রেন গত ২৬ ডিসেম্বর উত্তরা ডিপোতে এসে পৌঁছে।

মূল ট্রেনের ছয়টি জাপানের কোবে বন্দর থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল মোংলা বন্দরে পৌঁছার কথা। এর আট দিন পর উত্তরা ডিপোতে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল সংশ্লিষ্টরা।

 

মেট্রোরেল যাত্রীদের প্রশিক্ষণ শুরু

দেশে এখন যেসব ট্রেন চলে, সেগুলোর সঙ্গে মেট্রোরেলের পার্থক্য আকাশ পাতাল। সেই সঙ্গে টিকেটিং সিস্টেমও ভিন্ন। বসার ব্যবস্থাতেও পার্থক্য আছে।

ট্রেনে চড়া, টিকিট কাটাসহ অন্যান্য নিয়মকানুন যাত্রীদেরকে হাতকলমে শেখানোর ব্যবস্থা হচ্ছে।

এ জন্য ‘এক্সেকিউটিভ অ্যান্ড ইনফরমেশন’ নামে একটি প্রশিক্ষণ শুরু করছে মেট্রোরেলের কর্মীরা।

গত ১৮ জানুয়ারি এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

দিয়াবাড়িতে ডিপো এলাকায় মেট্রোরেল প্রদর্শনী ও তথ্যকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

সব মিলিয়ে মেট্রোরেলের লাইনের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার। 

 

সার্বিক অগ্রগতি

প্যাকেজ ৩ ও ৪-এর আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উড়ালপথ ও নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পরে এই উড়ালপথের ওপরই ট্রেনের জন্য লাইন বসানো হবে। এরইমধ্যে ১১ দশমিক ৫৮ টি কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে।

বর্তমারে মিরপুর ১১-১২ কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের ছাদ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এই কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পিলারের কাজও শেষ হয়ে গেছে। পিয়ার হেডের কাজও খুব একটা বাকি নেই। এখন ওপরে ভায়াডাক্ট বসিয়ে সেখানে স্থাপন করা হবে রেল লাইন।

আগারগাঁও থেকে কারওয়ানবাজার পযন্ত ৩ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে আধা কিলোমিটারেরও বেশি শেষ হয়েছে।

বিজয় সরণি মোড় থেকে ফার্মগেট ও কারওয়ানবাজার সাব স্টেশনের নির্মাণ কাজ চলমান আছে।

এই এলাকায় মোট ১১৫ টি স্টেশনের কলামের মধ্যে ৬৭টির কাজ শেষ হয়ে গেছে।

কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৫৪টি স্টেশন ও কলামের মধ্যে ৩২টি কলামের কাজ শেষ হয়েছে।

৪ দশমিক ৯২২ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ৫০০ মিটারেরও বেশি দৃশ্যমান।

 

পুরোদমে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ।

 

 

যা বললেন সংশ্লিষ্টরা

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাত্রীসহ মেট্রোরেল চালু করা হবে। তখন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পথে চালু হবে।’

পরের বছরের জুলাইয়ের মধ্যে চালু হবে বাকি পথে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড, ডিএমটিসিএল এর মাধ্যমে।

প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, ‘এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত থাকলেও নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই পুরো মেট্রোরেলের কাজ শেষ করা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর কারণে প্রকল্পটির যেসব বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক নিজ নিজ দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন, তাদের বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনেকে প্রকল্প এলাকায় কাজে ফিরেছেন।’