ব্রেকিং:
যানজট মুক্ত নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী চৌমুহনী শহর নোয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভনে মহিলা কর্মচারীকে ৮ মাস ধরে ধর্ষণ চাটখিলে দিবাগত রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি চাটখিলের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্বোধন চাটখিলের অ্যাডভোকেট পারভেজ নিখোঁজ নোয়াখালী সদরে মাদক সেবনের সময় চারজনকে আটক সেনবাগে স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করায় স্ত্রীকে হত্যা রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত: আইসিজে প্রেসিডেন্ট নোবিপ্রবির জেনির জিনিয়াস হওয়ার গল্প নোয়াখালীতে ট্রাকচাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ নোয়াখালী জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা চাটখিলের আয়েশা বেগম কোম্পানীগঞ্জে অটোচাপায় এক মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু `ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস` উপলক্ষ্যে নোয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন হাতিয়ায় ৯ লক্ষ মিটার জাল জব্ধ করেছে কোষ্টগার্ড কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন চাটখিলে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের হত্যার বিচারও হবে’ - একরামুল করিম চৌধুরী চাটখিলে আবাসিক হোটেলে ডেকে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস আজ দেশে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
একবছরে পাঁচগুণ মুনাফা বেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমাজন বাঁচাতে লিওনার্দোর ৫০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ১৬২৬৩ ডায়াল করলেই মেসেজে প্রেসক্রিপশন পাঠাচ্ছেন ডাক্তার জোরশোরে চলছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ
৩৩৭

‘আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে আর থাকতে চাই না’

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৯  

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে রোহিঙ্গাদের মুখে তাদের ওপর চালানো বর্বরতার কথা শোনেন তারা। এ সময় রোহিঙ্গা নেতারা তাদের বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে আর থাকতে চাই না। নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নিজেদের বসতি গড়তে চাই।’

শনিবার দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে কাছে আসতে দেয়নি আইসিসি’র প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি সঙ্গে থাকা প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা কথা বলা কোনো রোহিঙ্গাদেরও ছবি তুলতে দেননি। বিকেলে তারা কক্সবাজার ফিরে যান।

রোববার কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তার (আরআরআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প সূত্র।

সূত্র মতে, শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছায় আইসিসি প্রতিনিধি দল। কক্সবাজারে রাত্রীযাপনের পর সকালে গাড়ি যোগে কুতুপালং ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায় প্রতিনিধি দল। ওখানে ক্যাম্প ইনচার্জ ওবাইদুল্লাহ’র কার্যালয়ে ক্যাম্প ও উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন তারা। সেখান থেকে বেরিয়ে ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন।

সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা কোনো কথা বলতে না চাইলেও, কথা বলা রোহিঙ্গা নেতারা জানান, আইসিসি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গারা কেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে জানতে চায়। এ সময় রোহিঙ্গারা জানান, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের পুলিশ ক্যাম্পে সংগঠিত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, বিজিপি, রাখাইন সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চালায়। রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ, গণহত্যা, গুম, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। সন্তানদের সামনে বাবা-মা, মা-বাবার সামনে সন্তানকে নির্বিচারে কুপিয়ে, আগুনে পুড়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে আইসিসি প্রতিনিধি দল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনার পাড়ায় শূন্য রেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখতে যায়। সেখানে আইসিসি প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

তিনি জানান, মিয়ানমার তাদের ওপর চরম নিপীড়ন, গণহত্যা ও অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এ সময় বাড়ি-ঘরে লুটপাট শিশুদের আগুনে পুড়ে মেরেছে নরপিশাচের দল।

আইসিসি প্রতিনিধি দলকে উদ্দেশ্য করে দিল মোহাম্মদ বলেন, আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে আর থাকতে চাই না। নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নিজেদের বসতি গড়তে চাই।

ক্যাম্প সূত্র জানায়, উভয় ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের কথা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে আইসিসি প্রতিনিধি দল। ক্যাম্প পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উখিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আবুল মনছুর, ক্যাম্প ইনচার্জ ওবাইদুল্লাহসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সঙ্গে ছিলেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মো. আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কিনা এটি নিশ্চিত হতে তদন্তে নেমেছে আইসিসি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস স্টুয়াটের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তাদের সঙ্গে কথা বলতে কক্সবাজারের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম কোনার পাড়া শূন্য রেখায় যান। অভিযুক্ত মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে আইসিসি প্রতিনিধি দল সেখানে রোহিঙ্গা নরনারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে, আইসিসি প্রতিনিধি দলের কক্সবাজার সফর নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের প্রধানের নাম জানানো হলেও কারা কারা রয়েছেন সেটাও গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়নি।

নোয়াখালী সমাচার
নোয়াখালী সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর